বন্যায় কুড়িগ্রামে শতাধিক স্কুল বন্ধ, বিলীন হয়েছে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রৌমারীতে গাছবাড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (ছবি- কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি)কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, তিস্তা, ধরলাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে দেড় শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্যার পাশাপাশি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজিবপুরে বন্যা কবিলত প্রাথমিক বিদ্যালয় (ছবি: কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি)

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলমান বন্যায় জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ক্লাসরুমে পানি প্রবেশ করায় ১২৯টি বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ২০টি, উলিপুরে ২৪টি, চিলমারীতে ২৫টি, নাগেশ্বরীতে ১৩টি, রাজারহাটে ৩টি, রৌমারীতে ১৫টি এবং রাজিবপুরে ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি প্রবেশ করায় প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজ-পত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে চলমান বন্যায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে জেলায় পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এগুলো হলো- ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ভরতের ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার ২ নং যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজিবপুর উপজেলার সন্ন্যাসীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একই উপজেলার নয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ভেলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিকল্প পদ্ধতিতে পঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।বাইটকামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ছবি- কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি)

বন্যার পানির কারণে জেলার ৭ উপজেলার অর্ধশতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রৌমারী উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পানির তোড়ে রৌমারীর গাছবাড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, জেলায় মোট ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বিদ্যালয়ে প্রায় চার শতাধিক বন্যাদুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

/এফএস/ 

আরও পড়ুন- বন্যার পানিতে বগুড়ার ৮২টি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ