পঞ্চগড় জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকায় মরিচ চাষ করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে মরিচ চাষ ব্যাপকহারে বেড়েছে। বাজারে ভালো দাম ও চাহিদার বিবেচনায় চাষিরা এগিয়ে এসেছেন মরিচ চাষে।আগে নিজের প্রয়োজনে বাড়ির আশপাশের কিছু জমিতে মরিচ চাষ থাকলেও এখন অনেক কৃষকই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মরিচ চাষ করছেন। অল্প জমিতে বেশি ফলন এবং অধিক মুনাফা পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে মরিচ উৎপাদনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে ক্ষেত থেকে তুলে কাঁচা-পাকা মরিচ পাশের রাস্তায়, রাইস মিলের চাতাল, আর বাড়ির উঠোনে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। উঁচু যেসব জমিতে অন্য ফসল ভালো জন্মে না, সেসব জমিতে কৃষকেরা মরিচ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমি থেকে ২৫-৩০ মণ কাঁচা মরিচ উৎপাদন হয়। আর কাঁচা মরিচকে শুকনা করলে বিঘা প্রতি পাওয়া যায় ৮-১০ মণ। বিঘা প্রতি মরিচ উৎপাদনে খরচ হয় ১০-১৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত মরিচ বিক্রি করলে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। কাঁচা বা শুকনো দু’ভাবেই মরিচ বিক্রি করা যায়। শুকনো মরিচ বিক্রিতে লাভ একটু বেশি হয়। অন্য যেকোনও ফসলের তুলনায় মরিচ চাষে লাভ বেশি, একারণে কৃষকরা মরিচে ঝুঁকেছেন বেশি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকার কৃষক মো. শহিদুল্লাহ, আটোয়ারী উপজেলার মনোজ রায়, তরিকুল ইসলাম, সফিয়ার রহমান, বোদা উপজেলার হকিকুল ইসলামসহ অনেকেই মরিচ চাষ করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন।
জেলার আটোয়ারী উপজেলার নলপুখুরী গ্রামের মরিচ চাষি মনোজ রায় জানান, তিনি এবছর ২ একর জমিতে মরিচ আবাদ করেছেন। তার ক্ষেত থেকে প্রায় ৮০ মন মরিচ উৎপাদন হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই এলাকার কৃষক সফিয়ার রহমান বলেন, ‘প্রতি মণ মরিচ ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।’
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা এলাকার কৃষক নাজমুল হক জানান, মরিচ দুই সময়ে চাষ করা যায়। গ্রীষ্মকাল আর বর্ষাকাল। বর্ষাকালে মরিচ চাষে লাভ একটু বেশি হয়।
বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার কৃষক হকিকুল ইসলাম বলেন, ‘অল্প সময় ও অল্প খরচ এবং কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ার ফসল মরিচ। এ ফসল আবাদে আমাদের হয়রানি কম। যে কোনও স্থানেই মরিচ বিক্রি করা যায়।’
মরিচ চাষে শুধু চাষিরাই নয়, শ্রমিকরাও লাভবান হচ্ছেন। মরিচ ক্ষেতে কাজ করে সংসারে বাড়তি আয় করতে পারছেন নারী শ্রমিকরা। আটোয়ারী উপজেলার ধামোর এলাকার নারী শ্রমিক জবেদা খাতুন বলেন, মরিচ চাষের কারণে আমাদের কাজের অভাব নেই। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে মরিচ তুলি। ঢাকি (বাঁশের পাত্র) প্রতি ৪০ টাকা করে পাই। দৈনিক ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা পাই। এ টাকা দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে যায়।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শামছুল হক জানান, পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিকভাবে মরিচের আবাদ বাড়ছে। জেলার পাঁচ উপজেলাতেই মরিচ চাষ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয় আটোয়ারী উপজেলায়। প্রতি হেক্টরে মরিচের ফলন হয় ৭০-৭৫ টন। টুকটুকে লাল রং ধারণ করায় পঞ্চগড়ের মরিচের চাহিদাও বেশি।’ কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রান্তিক চাষিদের নানারকম প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় দিন দিন মরিচের আবাদ বেড়ে চলেছে বলেও জানান তিনি।
/এপিএইচ/
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে কমেছে সবজি সরবরাহ, বেড়েছে দাম