২০১৫ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিনিময় হয় ছিটমহল। এরপর নানা প্রকল্প ও কর্মসূচি হাতে নেয়। এছাড়াও নানামুখী সুবিধা পেয়ে দারুণ খুশি বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী নির্বাহী মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে ১০৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ, ১৯৩ মিটার ব্রিজ তৈরি, ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খনন, ১১টি বাজারের শেড স্থাপন, সাতটি মসজিদ ও পাঁচটি মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি বছরে প্রক্কলিত ৮২ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ছিটমহলবাসীদের চাহিদা অনুযায়ী সব কাজই করা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে চলমান সব কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গাড়াতি ছিটমহলের মফিজার রহমান কলেজের শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার ও শরিফুল ইসলাম জানান, ছিটমহলে স্কুল কলেজ হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, বিদ্যুৎ আসছে আমরা নাগরিকত্ব পেয়েছি সব মিলিয়ে আমরা দারুণ খুশি। আগে অনেক কষ্টে মিথ্যে পরিচয় দিয়ে লেখাপড়া করতে হতো।
দিপ্তী রানী নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি সরকার থেকে সাইকেল পেয়েছি। আমি এখন সাইকেলে করে স্কুলে যেতে পারছি।’
দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ি ছিটমহলের বৃদ্ধ সমসের আলী বলেন, ‘রাস্তা-ঘাট হয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। আমরা সরাসরি উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারছি। হাট-বাজার হয়েছে। পাকা রাস্তায় সাইকেল, ভ্যান-রিক্সা, অটো সবই চলছে। ছেলেমেয়েরা সহজেই স্কুল কলেজ যেতে পারছে। রোগী এবং কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হয়েছে। আগে রোগী এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে অনেক কষ্ট ছিল।’
পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, মাত্র দুই বছরের মধ্যে বর্তমান সরকার ছিটমহলের সব সমস্যা নিরসন করেছে। বর্তমান সরকার ছিটমহলগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, সাবেক ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমারেখার অন্তভুক্ত হওয়ার পরপরই সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করেছি, ভোটার তালিকা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ছিটমহলগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার মধ্যরাতে পুষ্পাঞ্জলি ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার জেলার বোদা উপজেলার পুটিমারী ছিটমহলে যৌথভাবে শিশুদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে বিলুপ্ত ছিটমহল নেতরা জানিয়েছেন।
/বিএল/এসএমএ/