গত তিন চার দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে। রবিবারও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে টাঙ্গন ও শুক নদীর পানি আরও বাড়বে এবং আরও বেশি এলাকা প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার (১৩ আগস্ট) নাগাদ টাঙ্গন নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ২৪৫.৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ৩৭৫ মিলিমিটার ও শনিবার দুপুর নাগাদ ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে কৃষি অধিদফতর।
শনিবার (১২ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও শহরের টাঙ্গন নদীর তীরে ডিসি বস্তি, হঠাৎ পাড়া, কলেজপাড়াসহ রোড খালপাড়া ও শান্তিনগর এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। বাড়িতে পানি উঠায় এসব এলাকার মানুষ ঠাকুরগাঁও শহরের রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি রোড যুব সংসদের রুমে আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত আসমা খাতুন (৬০) জানান, ‘বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় এক কাপড়ে এসেছি। টাকার অভাবে এখন পর্যন্ত দরকারি জিনিজপত্র কিছুই কিনতে পারিনি। খাবার পানি ও শুকনা খাবারের আশায় আছি। পরনের কাপড়ও দরকার।’
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও পীরগঞ্জে মোট দুই হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় টাঙ্গন পাড়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় এক হাজার পরিবার। শহরের পার্শ্ববর্তী হঠাৎবস্তি ও ডিসি বস্তিতে প্রায় ২০০ মানুষ বন্যার পানিতে আটকে গেলে প্রশাসনের অনুরোধে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে উদ্ধার করেন। বন্যাদুর্গতরা জেলার ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়াল।
/এফএস/
আরও পড়ুন-
বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ফের বন্যা ১০ জেলায়
লালমনিরহাটে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ