দিনাজপুরে শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রধান প্রধান নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সড়ক, মহাসড়ক ও ট্রেনলাইনের ওপর পানি উঠায় দিনাজপুরের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন ও যানবাহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে মিটার ডুবে যাওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সারা জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সড়ক ভেঙে দিনাজপুর সদর-বিরল-কাহারোল উপজেলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গত শনিবার (১২ আগস্ট) থেকে উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণের ফলে দিনাজপুর জেলা বন্যার কবলে পড়ে। রবিবার সকালে পূর্ণভবা নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শহরের ভেতরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে শহরের অধিকাংশ বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।
সড়ক ভেঙে দিনাজপুর সদর-বিরল-কাহারোল উপজেলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের প্রধান ৩টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে ইছামতি নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সে.মি., আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সে.মি. এবং পূর্ণভবা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৮ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অন্যান্য নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও পূর্ণভবা নদীর পানি কমছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মাহবুব আলম।
তিনি জানান, যেসব স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে সেসব স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাসাবাড়িতে ঢুকে গেছে পানিএদিকে বন্যার পানিতে মিটার ডুবে যাওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সারা জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সড়ক, মহাসড়ক ও ট্রেন লাইন ডুবে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দিনাজপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রানা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বন্যার পানিতে ডুবে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের গোডাউন ডুবে গিয়ে আগামী জেএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার খাতা ও ওএমআর ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান জানান, হঠাৎ করে শহরে পানি প্রবেশ করায় বোর্ডের ৪টি গোডাউনে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে সেখানে থাকা জেএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার খাতা ও ওএমআর ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
সেনাবাহিনীর উদ্ধার তৎপরতাএদিকে বন্যার ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিনাজপুরের সদর, চিরিরবন্দর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, ঘোড়াঘাট উপজেলা। এসব উপজেলায় বন্যার কবলে পড়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। তিনি জানান, যেসব স্থানে বন্যার পানিতে মানুষজন আটকা পড়েছে তাদের উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে। আর বন্যা কবলিত মানুষজনের জন্য ৩শ’ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং তাদের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ৬৭ মে.টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন, গত ৩০ বছরে দিনাজপুর জেলায় এ ধরনের বন্যা দেখেননি তারা। দিনাজপুরের বালুবাড়ী এলাকার সুমন চন্দ্র জানান, তার বয়স প্রায় ৫০। কিন্তু ৮৮’ সালের পরে এই ধরনের বন্যা পরিস্থিতি আর দেখেননি তিনি।
/বিএল/