উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাবুবাড়ি এলাকায় মাত্র চারঘর হিন্দুর বসবাস। প্রতিবছর দুর্গাপূজা এলেই দূরবর্তী কোনও মণ্ডপে গিয়ে তাদের পূজা করতে হয়। কিন্তু এবার মুসলমানদের সহায়তায় বাবুবাড়ির কালিমাতা মন্দির প্রাঙ্গনে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপূজার মণ্ডপ। এই মণ্ডপে পার্শ্ববর্তী কৈয়াপাড়া গ্রামের হিন্দুরাও এসেছেন পূজা করতে। প্রতি সন্ধ্যায় হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলমানরাও আসেন দর্শনার্থী হিসেবে। মণ্ডপ রক্ষণাবেক্ষণেও সহায়তা করছেন তারা।
বাবুবাড়ির কালিমাতা মন্দির প্রাঙ্গনে পূজামণ্ডপ তৈরির উদ্যোক্তা পাপন সিংহ জানান, প্রতিবছর দুর্গাপুর বাজারে গিয়ে দুর্গা প্রতিমার পূজা করলেও এবার নিজেদের এলাকায় মণ্ডপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু অর্থের জোগান এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ি। এ সময় আমার পরিচিত মুসলিম ভাইরা অর্থ ও নিরাপত্তা সহায়তার আশ্বাস দেন এবং তারা নিজেরাই আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মণ্ডপ তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করেন।
সহায়তাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে পাপন সিংহ বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী হামিদ মিয়া ও মমিন ভাই, কসাইপড়ার অন্তর মণ্ডল, কামাল খামার গ্রামের শান্ত ইসলাম, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, আবেদ আলী সরদার এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নারী মেম্বার আমেনা খাতুনসহ অনেকেই মণ্ডপ তৈরিতে সহায়তা করেছেন।’
মণ্ডপ তৈরিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে জানিয়ে পাপন সিংহ বলেন, ‘শুধু ১৬ হাজার টাকা সরকারি সহায়তা পাওয়া গেছে। বাকি টাকা হিন্দু ও মুসলিমদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা।’
তিনি জানান, কয়েকজন মুসলমান ব্যবসায়ী মিলে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা সহায়তা করেছেন। এছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন মুসলমান যুবক প্রতিদিন পূজা চলাকালীন নিরাপত্তার বিষয়সহ সার্বিক সহায়তা করেছেন।
এদিকে শুধু মণ্ডপ তৈরিতে নয়, দশমীর রাতে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য যাবতীয় সহায়তাও করছেন এলাকার কয়েকজন মুসলিম। বাবুবাড়ি এলাকার হামিদ মিয়া ও মমিন প্রতিমা বিসর্জনে ব্যবহৃত ভেলা তৈরির জন্য ড্রাম দিয়ে সহায়তা করেছেন বলে জানান পূজা পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য পাপন সিংহ।
এ ব্যাপারে হামিদ মিয়া ও মমিন জানান, যার যে ধর্ম তারা সেটা পালন করবেন এটাই স্বাভাবিক। আমরা শুধু ধর্ম পালনে সহায়তা করছি, অন্য কোনও উদ্দেশ্যে নয়। আমরা মনেকরি, রাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রতিবেশী হিসেবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনে সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নূর বখ্ত জানান, অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব পালনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। হিন্দু সম্প্রদায় যেন তাদের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে সেটা নিশ্চিত করাও মুসলমানদের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: