গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতাল পল্লিতে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত এবং উচ্ছেদের এক বছর আজ (৬ নভেম্বর)। দিবসটি উপলক্ষে সাঁওতালরা শোক র্যালি ও সমাবেশ করে। এ সময় তারা বাপ-দাদার জমি ফেরত ও হামলা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে।
সোমবার সকালে জয়পুরপাড়া ও মাদারপুর সাঁওতাল পল্লির খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া সাঁওতাল নারী-পুরুষরা এ শোক র্যালি বের করে। পরে তা বিক্ষোভ মিছিলে পরিণত হয়। শোক র্যালিটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সাপমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।
নিহত শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ টুডুর স্মরণে সাপমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কাগজের তৈরি শহীদ মিনারে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায় সাঁওতালরা। একই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
দুপুরে বিদ্যালয় চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাঁওতাল নেতা ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র সরেন, কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান, ঐক্য ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পঞ্চজ ভট্টাচার্য, আধিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু ও সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ। এছাড়া স্থানীয় সাঁওতাল নেতা ও ক্ষতিগ্রস্তরা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা হামলা, লুটপাট, হত্যা ও উচ্ছেদ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান। সেই সঙ্গে বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে গান পরিবেশন করে মাদল গানের দল। এদিকে, সমাবেশকে ঘিরে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকা থেকে শুরু করে সাপমারা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ পর্যন্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন: টাকা চুরির অপবাদে শিশু নির্যাতন: মামলা হলেও নেই গ্রেফতার