শনিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের তালুক গোলনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত কৃষক উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের তালুক গোলনা গ্রামে জ্যোতিন চন্দ্র রায়ের ছেলে।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আহত দুলালের বাবা জ্যোতিন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘জোড় যার মুল্লুক তার। ছেলের চোখের ওপরের দিকে গুলি লেগেছে।ভাগ্যিস চোখ দুটো বেঁচে গেছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও মামলার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন দুলালের বাবা।
এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন তুহিনের মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। পরে রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বন্দুকটি জব্দ করে পুলিশ। তবে পলাতক ইউপি চেয়ারম্যান।
এলাকাবাসী জানায়, প্রতি শীতেই এলাকার দলবাড়ি বিলে ক্ষমতাসীন কিছু লোকজন পাখি শিকার করেন। শনিবার দুপুরে কাঠাঁলী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সোরহাব হোসেন তুহিন ওই বিলে পাখি শিকারে যান। তিনি পাখি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকেন। একটি গুলি বিলের পাশে মাঠে ধান কাটতে থাকা কৃষক দুলালের চোখে লাগে।
স্থানীয়দের সহায়তায় ইউপি চেয়ারম্যান একটি মাইক্রোবাসে দুলালকে রংপুর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। তবে উত্তেজিত জনতা চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেলটি আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে চেয়ারম্যান গা-ঢাকা দেন।
ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আহতের চিকিৎসা খরচ বহন করছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।’
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া ঘটনার পর থেকে ওই চেয়্যারম্যান পলাতক। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বন্দুকটি জব্দ করা হয়েছে।’