সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে প্রতীক পাওয়ার পর রাতারাতি প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীদের পোস্টারে পুরোনগর ছেয়ে গেছে। নগরজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনি উত্তাপ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল এলাকা থেকে জনসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি প্রেসক্লাব চত্বর, সেন্ট্রাল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুপাশের দোকানদার, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি প্রত্যেকের হাতে লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে লাঙল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জাতীয় পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আহাম্মেদসহ দলের নেতা কর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।
জনসংযোগকালে মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ ও আমাকে নিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলছেন। এর মাধ্যমে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কারণ, কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। এছাড়া, তিনি একটি লিফলেট ছাপিয়েছেন, যার মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’ নির্বাচনে তিনি ভোটারদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাচ্ছেন দাবি করে বলেন, ‘যেহেতু রংপুর এরশাদের দুর্গ সে কারণে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।’
এদিকে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু নগরীর কুকরুল এলাকায় জনসংযোগ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি সেখানে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘পাঁচ বছর মেয়র পদে থাকাকালীন এমন কোনও অন্যায় করিনি, যার কারণে জনগণ আমাকে ভোট দেবে না। আমি সিটি করপোরেশনের অনেক উন্নয়ন করেছি। সেই উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখতে এবারও জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।’
অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা নগরীর মাহিগঞ্জ, সাতমাথাসহ আশপাশের এলাকায় জনসংযোগ করেছেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন এবং দোয়া চেয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। কাওছার জামান এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ায় বিষয়ে এখনও আমার মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ৫ জানুয়ারি বিনাভোটে ক্ষমতায় আসার পর কোনও নির্বাচনই অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি। এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেনি নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে শোডাউন করছেন, একারণে বিএনপিকে কোনও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’ সব দলকে সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোনও দলের পক্ষ থেকে লিখিত কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। আর সভা-সমাবেশ করার বিধান তো নির্বাচন আইনে নেই। প্রার্থীরা শুধু পথসভা করতে পারবেন। তাও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়।’
রসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছাড়াও বাসদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, এলডিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহারিয়ারসহ মোট সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।