অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টুর বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল মার্কায় ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করার অভিযোগ করেছেন জাপা মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। বিএনপি প্রার্থী বাবলাও আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী ঝন্টুর বিরুদ্ধে আচরনবিধি লঙ্ঘন করে শোডাউন স্টেজ বানিয়ে সমাবেশ করাসহ নানা অভিযোগ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী ঝন্টু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব তাদের অপপ্রচার।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী বাবলা বলেন, ‘সুমি কমিউনিটি সেন্টারে কোনও কর্মীসভা করা হয়নি, সেখানে ২০/২৫ জন কর্মীদের সঙ্গে বসে চা পান করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনাকে ফুলে ফেপে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনও কোনও চিঠি পাইনি।
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আসলে বর্তমান সরকার চায় না সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তারা চায় না বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। তারা আসলে আমাকে নির্বাচন করতে দিতে চাচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে। অথচ মঙ্গলবার নগরীর ব্যাস্ততম এলাকা মেডিক্যাল মোড়ে স্টেজ বানিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী যেভাবে শোডাউন ও সমাবেশ করলেন, কই সেখানে তো তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। এর মানে কি এক দেশে দুই আইন? ওই প্রার্থী প্রতিদিনই সভা সমাবেশ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন এসব রিটার্নিং অফিসারের দেখা উচিত।’
অপরদিকে নাগরিক সংলাপ থেকে বের হয়ে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একটি লিফলেট বিলি করছেন যেখানে লেখা হয়েছে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল মার্কায় ভোট না দেওয়ার জন্য। এ ছাড়াও রংপুরকে মফিজ বানানোসহ অনেক অবমাননাকর কথা লিফলেটে আছে যা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিফলেটের কপিসহ অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অপপ্রচার করে কোনও লাভ হবে না বরং এবার রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আমি জয়ী হবো।’
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। কোনও লিফলেট বিলি করিনি।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী অভিযোগ করেনি। পত্রিকায় দেখেছি উনি কর্মীসভা করছেন সেখানে ব্যনারে তাই লেখা ছিল। সে কারনে তার কাছে এ ব্যাপারে জানার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কারণ নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী সভা সমাবেশ শোডাউন করা নিষিদ্ধ।
বিএনপি প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, তাকে নির্বাচন করতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এসব কথা ঠিক নয়। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে কেউ আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।