হিলিতে দুই সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে আড়াই টাকা কমেছে

হিলি বন্দর দিয়ে চাল আমদানি করা হচ্ছে

হিলিতে দুই সপ্তাহের ব্যাবধানে চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই টাকা কমেছে। সরকার দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল ও সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে দরিদ্র মানুষের মাঝে ১০ ও ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করছে। এ কারণে দেশের বাজারে আমদানি করা ভারতীয় চালের চাহিদা খানিকটা কমেছে। ফলে চাল আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাজারে চালের চাহিদা বেশি থাকায় আগে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১শ’ থেকে ১২০শ’ ট্রাক চাল আমদানি হতো। বর্তমানে দেশের বাজারে চালের চাহিদা কমায় বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। সে হিসেব মোতাবেক বন্দর দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২ হাজার ৮৫টি ট্রাকে ৭৫ হাজার ২৫৩ টন চাল আমদানি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৫৭৮টি ট্রাকে ৫৭ হাজার ৭৯৬টন চাল আমদানি হয়েছে। চলতি মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ২৪টি ট্রাকে ৩৩ হাজার ৭২১টন চাল আমদানি হয়েছে।

বর্তমানে হিলি স্থলবন্দরে পাইকারি (ট্রাকসেল) প্রতি কেজি স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকা থেকে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে, দুই সপ্তাহ আগে এসব জাতের চাল ৩৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর রত্নাজাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি দরে, দুই সপ্তাহ আগে এসব জাতের চাল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। আগে এসব চাল খুচরা বিক্রি হয়েছে কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেশি দামে।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক ললিত কেশেরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চলতি মার্চ মাস থেকে দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য ১০টাকা কেজিতে ৫ লাখ পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু করেছে সরকার। এছাড়াও দেশের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ৩০ টাকা কেজিতে খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করছে সরকার। এতে দেশের বাজারে আমদানি করা ভারতীয় চালের চাহিদা অনেকটা কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন,‘ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বর্তমানে প্রতি টন স্বর্ণা জাতের চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৩৯০ থেকে ৪শ’ মার্কিন ডলার, আর রত্না জাতের চাল ৪৩০ থেকে ৪৪০ মার্কিন ডলারে। আগে এসব জাতের চাল প্রকার ভেদে ৩০ থেকে ৪০ ডলার করে বেশি দাম নির্ধারণ করেছিল। তারপরও ব্যবসায়ীরা লোকেশনের কারণে চাল আমদানি করতে ভয় পাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলারদের কাছে প্রচুর পরিমাণে চাল মজুদ রয়েছে। যারা সরকারের খাদ্য গুদামে চাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সরকার নতুন করে চালের বরাদ্দ না দেওয়ায় সেসব মিলাররা তাদের চালগুলো কম দামে বাজারে ছাড়ছেন এর ফলে বাজারে দেশীয় চালের দাম কমতে শুরু করেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘বন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের চেয়ে আমদানির পরিমাণ কমে গেছে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে তাদের গুদামে পর্যাপ্ত চালের মজুদ থাকলেও চালের ক্রেতা না থাকায় বন্দর দিয়ে চাল আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাগেরহাটে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ