রংপুরের তাজহাট মোল্লাটারি থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব। র্যাবের দাবি, নিখোঁজ পিপি রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেটি রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রংপুরের র্যাব ১৩-এর এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা রাত পৌনে ১টার দিকে রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাজহাট মোল্লাটারির একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করেছি। লাশটা কিছুটা বিকৃত হয়েছে।’
রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী দীপা ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘মরদেহটি শনাক্তের জন্য পিপি রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের আত্মীয়দের খরব দেওয়া হয়েছে। পিপির স্ত্রী দীপা ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।’
রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পিপি এবং জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও ও খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার প্রধান আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনা ৩০ মার্চ সকালে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর তার বাসার পেছনের একটি ডোবায় মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে ওই ডোবা থেকে কিছু পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১২টার দিকে আইনজীবী বাবু সোনার রংপুর নগরীর আলমনগর বাবু পাড়া এলাকার বাসায় আসে র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের একটি দল। এরপর কয়েকজন শ্রমিককে দিয়ে তারা ওই বাসার পেছনে একটি ডোবার পানি তোলা শুরু করে। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে ছুটে যান। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শ্রমিকরা পানি তোলার কাজ বন্ধ করে দেন। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, ১৫ ফুট গভীর ডোবায় পানির পাশাপাশি গোবর ও খড় রয়েছে। বালতি দিয়ে ওই ডোবার পানি তুলতে গেলে ৫-৭ দিন লেগে যেতে পারে। তবে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাদের পানি তোলার নির্দেশ দিলে তারা আবার এই কাজ শুরু করেন।
এদিকে, ওই ডোবা সংলগ্ন একটি বাঁশঝাড়ের কাছে একটি পুরাতন ও ছেঁড়া শার্ট পাওয়া যায়। শার্টটা নেড়েচেড়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা জানান, এটা পুরাতন বলে কেউ ফেলে গেছে।