দশম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে, বরের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

কুড়িগ্রামকুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় দশম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করার অপরাধে হাফিজুর রহমান (১৯) নামে এক কিশোরকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর বাল্য বিয়ের শিকার ওই কিশোরীকে তার অভিভাবকের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ জুন) দুপুরে ভুরুঙ্গামারী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাগফুরুল হাসান আব্বাসী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ আদেশ দেন। ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত বর হাফিজুর রহমান উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোটখাটামারী গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে। সে জয়মনির হাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেওয়ানের খামার গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে ও সামাদ নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী কেয়ামনি ও হাফিজুর রহমান প্রেমের সম্পর্কের কারণে প্রায় ২০ দিন আগে অভিভাবকদের অগোচরে নোটারি পাবলিকে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে। বিয়ের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও বর হাফিজুর কেয়ামনিকে তার নিজ বাড়িতে না ওঠানোয় কেয়ামনি সোমবার (৪ জুন) হাফিজুরের বাড়িতে চলে যায়। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে কেয়ামনির বাবা আবুল কাশেম ভুরুঙ্গামারী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ওইদিন রাতেই বর-কনেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরে মঙ্গলবার (৫ জুন) বর-বধূকে ইউএনও’র কাছে হাজির করা হলে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাফিজুরকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন এবং কেয়ামনিকে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ব্যাপারে জানতে ভুরুঙ্গামারী ইউএনও মাগফুরুল হাসান আব্বাসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ কবির জানিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমানকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন- চোখে স্প্লিন্টার নিয়েই বাড়ি ফিরতে হলো বিএসএফ’র গুলিতে আহত রাসেলকে