কওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে, আদালতে স্কুলছাত্রী

অভিযুক্ত কওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদকুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার উত্তর বাইটকামারী কওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদের (৪২) কাছে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতো ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৫ মাস আগে আব্দুল বাছেদ তাকেএকদিন বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় শিক্ষক আব্দুল বাছেদ তাকে ছুরি ধরে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। সোমবার (৩ সেপ্টেম্ব) বিকালে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেয় ভুক্তভোগী শিশুটি। আদালত ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটি পরিবারের কাউকে না বললেও পরবর্তীতে পরিবারের কাছে সে বিষয়টি প্রকাশ করে।

এদিকে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল বাছেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, উপজেলার উত্তর বাইটকামারী গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিশু কোরআন শরীফ শিক্ষা নেওয়ার জন্য সাড়ে ৫ মাস আগে বাইটকামারী কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল বাছেদের কাছে যায়। কিছুদিন ধরে ওই শিশুর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের লোকজন ২৯ আগস্ট রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় ওই শিশুটির চাচা বাদী হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল বাছেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নিযার্তন দমন ট্রাইব্যুনাল ৯ এর ১ ধারায় মামলা করলে গত ৩১ আগস্ট রাতে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার শেওড়া মসজিদের বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার আব্দুল বাছেদ (৪২) রৌমারীর উত্তর বাইটকামারী গ্রামের বাসিন্দা ও উত্তর বাইটকামারী কওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ।