মজিবর রহমানের বাড়ি জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহানহাট ইউনিয়নের চৌধুরীগছ গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে। বাংলাবান্ধা পাগলিডাঙ্গী মডেল হাইস্কুলে তিনি শিক্ষকতা করতেন। মজিবরের দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাংলাবান্ধা পাগলিডাঙ্গী মডেল হাইস্কুলের সভাপতি মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, মজিবর রহমান প্রতি শুক্রবার বিএড ক্লাস করতে দিনাজপুর যান। সেদিনও দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড়ে নেমে ওই বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনায় মাথার পেছন দিকে আঘাত লাগায় গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাত ১০টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহীন মজিবর রহমান জানান, রাত ১২টার পর মজিবরের মরদেহ রংপুর থেকে তেঁতুলিয়ার শালবাহান ইউনিয়নের চৌধুরীগছের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। রবিবার জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে পঞ্চগড় থেকে ভাইবোন নামের একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস (মৌলভীবাজার ব ০০৪৪) তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। পথে তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে বিদ্যুতের খুঁটি বহনকারী একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো চ ০১৩০ ) সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পাঁচ জন। পরে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর এক শিশুসহ তিন জন মারা যান। রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথে আরও দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- পঞ্চগড় সদর উপজেলার জোতহাসনা গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী লাভলী বেগম (২৯) ও তার ছেলে ইয়াছিন আলী (৭), শিতলীহাসনা গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে রেজাউল করিম (২২), বোদা উপজেলার উৎকুড়া গ্রামের পুতিনের ছেলে অনিত্য (২০), তেঁতুলিয়ার উত্তর কাসেমপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩০), গুয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে রাসেল (২০), গরিয়াগছ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে ইউনুস আলী (২৮) ও ইউসুফ আলীর ছেলে মনির (৬), মোমিনপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে মোজাম্মেল (৩৮) এবং ডাঙ্গাপাড়া এলাকার ওমর আলীর মেয়ে রাহেলা (২৫)।