দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিকে মাদকমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার নবাগত ইউএনও। এ অভিযানের মাধ্যমে আটক মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হচ্ছে। হিলি সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এধরণের অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
হিলি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে রাতের আঁধারে দেশের ভেতরে ঢুকে ফেনসিডিল ও মদসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর বাড়িতে বাড়িতে এসব মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা চলে। সহজলভ্য ও দাম খানিকটা কম হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকসেবীরা হিলিতে আসে মাদকসেবন ও ক্রয় করতে।
হাকিমপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে এখানে মাদকের কেনাবেচার প্রবণতা অন্য এলাকার তুলনায় একটু বেশি। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি থাকার পরও অসাধু চোরাকারবারিরা রাতের আধারে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মাদক নিয়ে দেশে ঢুকে। হিলির কিছু কিছু এলাকায় মাদকের কেনাবেচাও হয়। সম্প্রতি প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার কারণে এবং তাদের সতর্কতার কারণে মাদকের প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে। বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ওপেন যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি হাকিমপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ মাস্টার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যুবসমাজ বিশেষ করে ছাত্ররা মাদকের প্রতি যেভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে তা নিয়ে প্রত্যেকটি পরিবার একটা অশান্তির মধ্যে আছে। আজ কোনও পরিবার শান্তিতে নেই, তারা সবসময় একটা টেনশনের মধ্য আছে। সবসময় ছেলে-মেয়েরা কখন কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে মিসছে এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে।’
হাকিমপুর উপজেলা সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দূর-দূরান্ত থেকে মাদকসেবীরা মাদক কেনার জন্য হিলির বিভিন্ন এলাকায় আসছে। কাজেই এর শেকড় উপরে ফেলতে হলে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। বিশেষ করে যেখানে বিক্রি হচ্ছে ও যেখানে সরবরাহ থেকে হচ্ছে, সেই জায়গাগুলোতে বেশি বেশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার প্যানেল মেয়র মিনহাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তবে হিলি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে অতিসহজে ও অল্প মূল্যে মাদক পাওয়া যায়। তাই এ এলাকার যুবসমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যে অভিযান চালাচ্ছেন এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এর পাশাপাশি যুবসমাজকে যদি খেলাধূলার প্রতি আসক্ত করা যেত তা হলে হয়তো যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখা যেত।’
হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আখিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক মাস হলো হিলিতে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছি। এখানে আসার পর শুনেছি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে এখানে মাদক খুব সহজলভ্য। হিলিকে আমি মাদকমুক্ত করবো বলে ঘোষণা দিয়েছি । আমি হিলিকে মাদকমুক্ত করতে সাধ্যমত চেষ্টা করছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি এরইমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি। এরইমধ্যে প্রায় ৫০ জন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় এনে কারাগারে পাঠিয়েছি। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে অনেককে জরিমানা করে শুধরানোর সুযোগ দিয়েছি। হিলি মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক শুধুমাত্র ওই ব্যক্তির ক্ষতি করছে না এটা সমাজের ক্ষতি করছে, দেশের ক্ষতি করছে, জাতির ক্ষতি করছে, যুবসমাজের ক্ষতি করছে।’