নীলফামারীতে আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

01নীলফামারীতে এবার আগামজাতের আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারের দাম পেয়ে এবার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলায় এবার ২১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। কিন্ত এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জন হয়েছে ২২ হাজার ৮১২ হেক্টর জমি। এরমধ্যে আগামজাতের ৬ হাজার ২১২ হেক্টর জমির আলু ইতোমধ্যে ঘরে তুলেছে কৃষকরা। যার গড়ে ফলন হয়েছে ১৫ দশমিক ১২ মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় এবার ৯৬২ হেক্টর জমির আলু বেশি হয়েছে। এবারে আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ দফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফ রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও নীলফামারী সদরে আলু চাষিরা উঁচু শ্রেণির জমিতে আগেভাগেই আগামজাতের গ্রানুল্যা, লরা, মিউজিকা, ক্যারেজ, রোমানা ও পাকরি জাতের আলু চাষ করেছে। বিশেষ করে জলঢাকার মিরগঞ্জ, কাঠালী, শৌলমারী, কৈমারী ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা, বাহাগিলী ও নিতাই ইউনিয়নের কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু ক্ষেতে। এখন কৃষকরা আলু ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন ও বিক্রি শুরু করেছে। ’
সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের সরকার পাড়ার কৃষক শফিউদ্দিন বলেন, বিঘা প্রতি জমিতে বীজ, চাষ, সার, ওষুধ, সেচ, নিড়ানি, আলুর আল তৈরী ও উত্তোলনসহ খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি আলুর ফলন হয়েছে ৫০-৫৫ মণ। বাজারে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা দরে। এতে বিঘা প্রতি লাভ হয় ১৪-১৬ হাজার টাকা।
জলঢাকা উপজেলার মিরগঞ্জ ইউনিয়নের আরাজী পাঠান পাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। তাছাড়া শুরু থেকেই বাজারে দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে।
সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের আব্দুর রউফ চৌধুরি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবারে ৮ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। এর মধ্যে সেভেন জাতের চার বিঘা জমির আলু আগাম তুলেছি। তিনি বলেন, প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে ৮৫ হাজার টাকা।
জেলা শহরের কিচেন মার্কেটের আলু ব্যবসায়ী আবু তাহের ও ইলিয়াজ আলী বলেন, বর্তমানে আলুর জাত অনুযায়ী সাড়ে ৮০০-৯০০ টাকা দামে বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকরা মোটামুটি ভাল দাম পাচ্ছে। কারণ এবারে রোগ বালাই ছাড়া অল্প খরচে আলুর ভালো ফলন হয়েছে। গত বছরের ধকল কাটিয়ে এবার স্বস্তির শ্বাস ফেলছে কৃষকরা।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় আগামজাতের আলুর ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আলুর পরিচর্চা রোগ-বালাই দমন ও জৈব সারের প্রয়োগ নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিক ছিল। তাই আলুর ভালো ফলন হয়েছে। গত বছরের ক্ষতি এবারে পুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশা করছি।’