ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে মারধরের পর গ্রেফতার

 

বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করছেন রংপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ওই শিক্ষকের দাবি, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে সকালে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ও এলাকাবাসী এ ঘটনায় বিচার দাবি করে স্কুলটি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় জুতাপেটার চেষ্টাও করেন নারী অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানান, নগরীর জলকর এলাকার আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বুধবার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুল ছুটির পর বাসায় যেতে না দিয়ে যৌন নির্যাতন করে। এরপর বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ওই শিক্ষার্থী বাসায় ফিরে যৌন হয়রানির বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানায়। তার অভিভাবকরা বিষয়টি অন্যদের জানালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আজ বৃহস্পতিবার স্কুলটি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষককে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ নারীরা তাকে মারধর করে।

শিক্ষার্থী, অভিভাকরা ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মোখতারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক জহুরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়। আমার স্কুলে নারী শিক্ষকসহ আরও শিক্ষক আছেন, তারা জানেন স্কুলে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।  

তবে স্কুলের কোনও শিক্ষককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় ঘটনার সত্যতা ও তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।  

অন্যদিকে, যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর চাচি জানান, বুধবার স্কুল ছুটির পর তার ভাতিজিকে প্রধান শিক্ষক যেতে না দিয়ে আটকে রেখে যৌন হয়রানি করে। বিষয়টি তারা জানতে পেরে প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন।

আর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জোৎস্না বেগম দাবি করেন, ‘এই কিন্ডারগার্টেনে পঞ্চম শ্রেণিতে ৮ জন মেয়ে শিক্ষার্থী আছে। তাদের মধ্যে ছয়জনই বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। আমাদের সন্তানদের কাছে আমরা এমন অভিযোগ শুনেছি।

তিনি ওই শিক্ষকের কঠোর শাস্তি দাবি করে স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান।