উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১৬ অনুযায়ী কোনও প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনও ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত দেয়াল বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, ভোটকেন্দ্র ছাড়া নির্বাচনি এলাকার যেকোনও স্থানে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ঝুলাতে বা টাঙাতে পারবেন।
সরেজমিন কুড়িগ্রাম জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থীই পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করছেন। তবে প্রচারণার এসব সামগ্রী ব্যবহারে নির্বাচনি আইনের কোনও তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা। নির্বাচনি এলাকার বাসা-বাড়ির দেয়ালসহ সরকারি-বেসরকারি অফিসের দেয়াল, গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি এমনকি ব্যাংক-বিমা অফিসের দেয়ালেও পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টার লাগানো থেকে বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফটক ও দেয়াল। এমনকি আদালতের ফটকেও লাগানো হয়েছে নির্বাচনি পোস্টার।
নিজ বাড়ির রঙ করা দেয়ালে বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচারণার পোস্টার লাগানোয় বিরক্তি প্রকাশ করে উলিপুর পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, এদেশে কোনও আইন নেই! আমরা কিছুদিন আগে অনেক টাকা খরচ করে বাড়ির দেয়াল রঙ করেছি। কিন্তু এসব পোস্টার আঠা দিয়ে লাগানোর কারণে দেয়ালের রঙের পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে কাউকে অভিযোগ করেছেন কিনা, জানতে চাইলে ওই বাসিন্দারা বলেন, কার কাছে কী অভিযোগ দেবো! অভিযোগ দিয়ে পরে আবার রাজনৈতিক রোষাণলে পড়তে হবে।
নিজ দফতরের মূল ফটকের দেয়ালে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন।’
যোগাযোগ করা হলে উলিপুর উপজেলার নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাত প্রচারণার ক্ষেত্রে এমন আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি, আমাদের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু করার ততটুকু করবো। প্রার্থীদের এমনিতেও বলা হয়, তাদেরকেও সচেতন হতে হবে। সবকিছু আইন প্রয়োগ করে শতভাগ ঠিক করা কঠিন। তবে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
পোস্টার লাগানোর এমন অনিয়মের পাশাপাশি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলছে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন। জেলা শহরের প্রধান সড়কেগুলোতে এসব মোটর শোভাযাত্রা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়নি বলে জানিয়েছেন শহরের একাধিক ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, সব দল অংশ না নেওয়ার পরও প্রচারণা ক্ষেত্রে এমন বিশৃঙ্খলা সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলোতে চোখে পড়েনি।
এ ব্যাপারে জানতে জেলার চারটি উপজেলার (নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী ও উলিপুর) রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা নির্বাচন অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসব বিষয় দেখার জন্য প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো তাদের নজরে এসে থাকলে তারা কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তা জানা নেই।’
বিভিন্ন অফিস ও বাসা-বাড়ির দেয়ালের পাশাপাশি আদালতের মূল ফটকেও পোস্টার লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ রাজারহাট, রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা এসবের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি।’
বিভিন্ন জায়গায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করে এ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন,‘অনেক জায়গায় প্রার্থীরা যেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হচ্ছে। যেখানে আমাদের চোখে পড়ছে সেখানে আমরা মোবাইল কোর্ট করছি। মঙ্গলবারও রাজিবপুর, রৌমারী ও চিলমারীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে, জরিমানাও করা হচ্ছে। সমস্যা নেই, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র মতে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আগামী ১০ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলার ৯ উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোট ২৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।