আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী এটি আয়তনের দিক দিয়ে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ। এবার এ ঈদগাহ ময়দানে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। মাঠের আশপাশে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাবের (যেখানে ইমাম দাড়াবেন) উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক দিয়ে তৈরি।
ঈদগাহ মাঠের দু’ধারে রয়েছে অজুর ব্যবস্থা। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। ঐতিহাসিক গোড়-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রায় অর্ধেক জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই ঈদগাহ মিনারটির পাদদেশে গত দুই বছর ঈদের চারটি নামাজ আদায় হয়েছে।
মুসল্লিদের দাবি, এখানে তাদের জন্য অজুখানা, টয়লেট স্থাপনসহ আরও পর্যাপ্ত সুবিধা থাকলে লোক সমাগম বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে যেকোনও নাশকতা এড়াতে নিরাপত্তা বলয় তৈরির দাবি তুলেছেন তারা।
দিনাজপুর রাজারামপুর এলাকার মমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরই আমরা এই মাঠে নামাজ আদায় করি। গত দুই বছর ধরে এখানে লোক সমাগম বেশি হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলাগুলো থেকেও এখানে লোকজন আসেন। আর বেশি লোক একসঙ্গে হাত তুললে আল্লাহ তা কবুল করেন।
ইতোমধ্যে ঈদের জামাত আয়োজনে ঈদগাহের ভূমি সমতলসহ ভরাট কাজ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, মাইক লাগানো, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের যাবতীয় ব্যবস্থা, মিনারের রং করা, অস্থায়ী অজু, পানি ও টয়লেট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
মাঠ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত দিনাজপুর কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন জানান, ঈদ জামাত আয়োজনে সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কোনও ধরনের সমস্যা যাতে না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে।
এদিকে সোমবার (৩ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেছেন।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম জানান, বৃহত্তম এই ঈদের জামাতে নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন করবে র্যাব, পুলিশ, আনসার এবং সাদা পোশাকের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। একইসঙ্গে পুরো মাঠটি সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম জানান, নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে পুরো মাঠ। এখানে ৮ শতাধিক পুলিশ, একশ’ আনসার, চার প্লাটুন র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও থাকবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অনেক বেশি লোক সমাগম হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম দাবি করেন, গত বছর ঈদ জামাতে ৬ লাখেরও বেশি মুসল্লি ঈদ জামাতে অংশ নেন। এবার আমরা আশা করছি তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। সে অনুযায়ী আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।