তিস্তার পানি ফের বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপরে, ১৫ গ্রাম প্লাবিত

ফের পানি বাড়ছে তিস্তায় (ছবি– প্রতিনিধি)

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১৫ গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক মো. নুরুল ইসলাম জানান, আজ বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬ থেকে ৯টার মধ্যে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুর ১২টায় পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও বিকাল ৩টায় ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ৯টার দিকে হু হু করে পানি বেড়ে এখন তা বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের সবক’টি (৪৪টি) স্লুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধিতে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়ি বাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও শৌলমারী, কৈমারী ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তাবেষ্টিত প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ফের বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া, পাশের জেলা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তাবেষ্টিত চর ও চরের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, ‘তিস্তার পানি বাড়া-কমায় ভোগান্তি কমছে না তিস্তাপাড়ের মানুষের। প্রথম দফার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির পর গত সোমবার আবারও বিপদসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বন্যাকবলিত মানুষজন। বুধবার আবারও নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় আমার ইউনিয়নের খড়িবাড়ি এবং চরখড়িবাড়ি গ্রামের একহাজার ৬৮০টি পরিবার দ্বিতীয়বারের মতো বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

একই উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রথম দফার বন্যার জের শেষ হতে না হতেই দ্বিতীয় দফায় আমার ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নয়শ’ পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, জলঢাকা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এ ব্যাপারে গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেইন বলেন, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমার ইউনিয়নের হলদিবাড়ী, সাইফুন বাজার ও ভবনচুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের ঘর-বাড়ি হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে আছে।

পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও পানি পরিমাপক মো. আমিনুর রসীদ জানান, গত ৯ জুলাই সকালে তিস্তার পানি উঠানামা শুরু করে। এরপর ১৩ জুলাই সকাল ৬টার দিকে পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শেষমেশ ১৬ জুলাই পানি বিপদসীমার নিচে নামে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, ১৩ জুলাই বিপদসীমার ৫০ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হওয়া শুরু হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রথম দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিপদসীমা বরাবরে পানি প্রবাহিত হয়ে ১৬ জুলাই বিপদসীমার নিচে নামে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পানি বিপদসীমার ওপরে ওঠায় ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পাউবো।’