দুর্ঘটনাকবলিত বাসঠাকুরগাঁও-ঢাকা রুটে ঠাকুরগাঁওয়ের বলাকা উদ্যান এলাকায় শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও অন্তত ৫০ জন আহত হন। এদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বলাকা উদ্যান ও হাসপাতালে বাড়তে থাকে স্বজনদের ভিড়। শোক, উদ্বেগ আর বিলাপে ভারি হয়ে উঠে বলাকা উদ্যান ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।
দুর্ঘটনায় নিহত হন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের জিয়াবাড়ির স্ত্রী মনসুরা ও স্বামী মোস্তফা। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি জানান এই দম্পতির কন্যা। এ সময় মেয়েটির রোনাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া সাব্বির জানান, মিনিবাসে তার পাশেই বসা চার জন মারা গেছেন।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছেদুর্ঘটনাস্থলের বর্ণনা দেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মিজান। তিনি জানান, কারও হাত, কারও পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল দুর্ঘটনাস্থলে। আহত ৫০ জনের মধ্যে ২০ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সেখানে নিহত, আহত ও নিখোঁজদের স্বজনদের চিৎকারে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ছোট্ট জরুরি বিভাগের রুমটিতে গুরুতর আহতদের জায়গা না হওয়ায় অনেককে করিডোর ও বারান্দায় চিকিৎসা দিচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় নার্স ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি কম ছিল, তারপরও দুর্ঘটনার খবর শুনে ছুটি বাদ দিয়ে পড়িমরি করে হাসপাতালে আসেন কর্মকর্তা- কর্মচারী, নার্স ও চিকিৎসকরা। সীমিত সামার্থ্যের মধ্যে আহতদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন তারা। কান্নারত স্বজনদের ভিড়ের মধ্যে চিকিৎসা চলতে থাকে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে দাফন সম্পন্ন করার জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্যও সহায়তা করা হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে আসা ডিপজল এক্সপ্রেসের একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গেটলক মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই বাসের মধ্যখানে পড়ে যায় একটি মোটরসাইকেল ও একটি যাত্রীবাহী থ্রি হুইলার। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ছয় জন মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আহতদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৫ জন মারা গেছেন।
সংঘর্ষে ভেঙে যাওয়া বাসনিহতরা হলেন—ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাংরোলা জিয়াবাড়ী গ্রামের আলী মৌতরের ছেলে মোস্তফা (৪২), মোস্তফা’র স্ত্রী মনসুরা (৩৫), সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শুকিয়া মোহাম্মদের ছেলে আব্দুল মজিদ (৬২)। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের গলিয়া রাম রায়ের স্ত্রী মঙ্গলী রাণী (৬৬), একই গ্রামের মনেস্বর রায়ের স্ত্রী জবা রাণী রায় (৩৫), ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁও গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুর রহমান তরুণ (৪০), একই উপজেলার লাহিড়ী হাটের অনীল সাহার স্ত্রী সরস্বতি সাহা (৫০), সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর দেবাডাঙ্গী গ্রামের তরণী চন্দ্র বর্মনের ছেলে ক্ষিতিশ চন্দ্র বর্মন (৩৬)। দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রউফ (২০) শুক্রবার রাতে মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন...
দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৮