সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন কামারপাড়া ও পল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই দা, বটি ও ছুরি শাণ দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছেন কামারদের কাছে। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের ব্যস্ততা। সার্বক্ষণিক বাতাসে ভাসছে টুং টাং শব্দ। কেউ হাপর টানছেন। কেউবা আগুনে কয়লা দিচ্ছেন। জ্বলন্ত আগুন থেকে লোহা তুলে সমানতালে পেটাচ্ছেন তারা। সেই তপ্ত লোহা থেকে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ নানা যন্ত্রপাতি। কথা বলার সময় নেই কারও।
বোদা উপজেলার কামারপট্টির জুয়েলার রহমান বলেন, ‘কোরবানির ঈদে দুই তিন মাস কাজের চাপ থাকে। বছরের অন্য সময় বলতে গেলে বসেই কাটাতে হয়। সে সময় পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্ট হয়ে যায়।’
শহরের কামারপট্টির সত্যেন রায় জানান, মূলধনের অভাবে তারা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র তৈরির ব্যবসা করছেন। লভ্যাংশের একটা বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে।
জেলার সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের নুরুজ্জামান জানান, কোরবানির গরুর মাংস কাটার যন্ত্রপাতির দামটা এবার একটু বেশি।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আকার ভেদে একশ থেকে পাঁচশ টাকার মধ্যে বিভিন্ন হাতিয়ার বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে চাপাতি তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা কেজি দরে, ছুরি আড়াইশ থেকে চারশ টাকা এবং বটি তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বড় ছুরি ৪০ টাকা, চাপাতি ৫০ টাকা, দা ৫০ টাকা ও ছোট ছুরি ২০ টাকায় শাণ দেওয়া হচ্ছে।