জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল দু’টির শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও প্রতিদিনের সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) করতে পারে না। এছাড়া মাঠটি নীলফামারী জেলা সদরের চওড়াবড়গছা ইউনিয়নের একমাত্র খেলার মাঠ। বিকাল হলে তরুণরাও ওই মাঠে খেলে। তাদের দাবি, খেলার মাঠটি দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করা হোক।
ওই দুই বিদ্যালয়ে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। মাঠ দিয়েই স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টি হলেই মাঠটি জলাশয়ে পরিণত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীদের।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি জমে পুরো মাঠ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্যান্ট-পায়জামা গুটিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করছে। কাদা-পানি পার হতে গিয়ে অনেকের জামা ভিজে যায়। সে অবস্থায় ক্লাস করতে হয় তাদের।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, কাদা-পানি পার হয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করায় শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারে না। দিনের পর দিন এভাবে ভেজার কারণে সর্দি-কাশিতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
সুরুজ আলী নামে এক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে নতুন নতুন বাসা বাড়ি নির্মাণ হওয়ায় মাঠের পানি নিষ্কাশন হয় না। অপরিকল্পিতভাবে বসভিটা নির্মাণের কারণে এমনটি হচ্ছে।
নতিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রায় ২৩৬ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়ের মাঠটি খানিকটা নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। মাঠটি ভরাট করতে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও কোনও ফল হয়নি।
একই কথা বললেন সেখানকার হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি নামলে রক্ষা নেই। স্কুলের মাঠ ও যাওয়া আসার পথটি হাঁটুপানি জমে থাকে। এতে তারা খেলাধুলা তো দূরের কথা হাঁটাচলাও করতে পারে না। স্কুলে এসে সারা দিন ক্লাসে বন্দি হয়ে থাকতে হয়।
অভিভাবকরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই বিদ্যালয়ের মাঠের এমন বেহাল দশা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। খেলাধুলা ও শরীরচর্চা না করলে পড়াশোনায় মন বসে না। কিন্তু কবে নাগাদ এই দুরবস্থা দূর হবে,কে জানে।
চওড়াবড়গছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, বিদ্যালয় দু’টির মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের বেকায়দায় পড়তে হয়। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জামা কাপড় ভিজে যায়। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মাটি ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ কম থাকায় কোনোভাবে মাটি ভরাট করা সম্ভব না।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ কম, বিষয়টি আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুরের সহযোগিতা কামনা করেছি। আশা করি, অচিরেই ওই স্কুল দু’টির মাঠের জলাবদ্ধতা দূর করতে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ করা হবে।’