গাইবান্ধায় ‘৯৯৯’-এ ফোন করে সহযোগিতা চাওয়ায় নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে প্রত্যাহার করা পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানকে আবারও দিনাজপুরে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করার পর ১৪ অক্টোবর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর দুই সপ্তাহ পর তাকে আবার বদলির খবরে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ।
তার বদলি নিয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নওয়াবুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে দিনাজপুরে বদলি চেয়ে আবেদন করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে সেখানে বদলি করেছে।’
স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ, ধাপেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক থাকাকালে নওয়াবুর রহমান আটক বাণিজ্য, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও নির্যাতনসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করেছেন। নওয়াবুরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এবং তার কর্মকাণ্ডের সাক্ষী-প্রমাণ থাকার পরও দৃশ্যত কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ক্ষুব্ধ। নিজের অপকর্ম ঢাকতে ও অভিযোগের দায় থেকে বাঁচতে নওয়াবুর গাইবান্ধা জেলা ছেড়ে দিনাজপুরে গেছেন বলে তাদের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় দিকে মোবাইল ফোনে নওয়াবুর রহমানের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘১ নভেম্বর রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে পাঠানো এক আদেশে নওয়াবুরকে দিনাজপুর জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে দিনাজপুর জেলায় বদলি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে নওয়াবুরের বিরুদ্ধে পাওয়া সব অভিযোগের এরইমধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা এবং মিথ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য নওয়াবুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।