আগাম জাতের ধানের দামও কম, লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

আগাম জাতের ধানের ক্ষেতনীলফামারীতে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এতে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলা সদরসহ ছয় উপজেলার কৃষকরা। তবে ইঁদুরের অত্যাচার আর ধানের দাম কম হওয়ায় খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে,  চলতি বছর জেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৩৭৫ হেক্টর। আর আবাদ হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৬৬২ হেক্টর। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জিত হয়েছে ২৮৭ হেক্টর। এর মধ্যে আগাম জাতের ধান আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ২৭৮ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী,  আশা করা হচ্ছে এবার প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৩ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হবে। এ পর্যন্ত আগাম জাতের ধান কাটা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪৬ হেক্টর। এতে বিঘা প্রতি গড় ফলন হয়েছে ১৮ মণ।

সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের ধান আবাদ করেছি। এবার উত্তরাঞ্চলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম জাতের হাইব্রিট ধানিগোল্ডধান বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ১৭-১৮ মণ। গত বোরো মৌসুম থেকে ধানের দাম কম। বর্তমান বাজারে নতুন আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা মণ দরে। আর বিঘা প্রতি বীজ, সার, হাল, কীটনাশক, মজুরি কাটা ও মাড়াইসহ খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। ধান চাষ করে ফের লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়া ইঁদুরের অত্যাচারে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’

জেলা সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের লোকমান আলী জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে আগাম উপসি জাতের ধান মামুন স্বর্ণ, বিনা-৭, ব্রি-ধান ৩৩ ধান চাষ করেছেন। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু  বাজারে দাম না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। সেই ধান বিঘা প্রতি ফলেছে ১৭-১৮ মণ। ধান বাজারে এখন ৩০০-৩৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আগাম জাতের ধান কাটা চলছে

তিনি বলেন,‘বাড়ির সারা বছরের  খরচ ধান থেকে চালাতে হয়। বাজার দর না থাকায় মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। পালের ছাগল ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে কিষাণকে মজুরির টাকা দিতে হচ্ছে। তাহলে ধান আবাদ করে লাভ কি?

সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক মমতাজ উদ্দিন জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে বিনা-১১ জাতের আমন ধানের চাষ করেছেন। এর মধ্যে দুই বিঘার ধান কেটে মাড়াই করেছেন। হাল, সার, বীজ, পরিবহন কাটা মাড়াই বাবদ চার বিঘায় খরচ হয়েছে ২৮ হাজার টাকা। আর চার বিঘায় ধান হবে ৭২ মণ। ৩৫০ টাকা মণ দরলে দাম দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২০০ টাকা। এখানে ২ হাজার ৮০০ টাকা লোকসান।

তিনি বলেন, ‘ধানের বাজার ভালো না পাওয়া গেলে পথে বসতে হবে। যে দাম তাতে এবারও লোকসান গুনতে হবে। লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।’

উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের লক্ষ্মীচাপ গ্রামের কৃষক প্রভাত রায় ও মাইকেল রতন জানান, ধানের দাম নেই। তাই আগাম ধান কেটে ওই জমিতে সবজির চাষের প্রস্ততি নিচ্ছেন। আলু, কপি, লালশাক, পুঁইশাক, মরিচ, পেঁয়াজসহ নানা ধরনের শাকসবজি ওই জমিতে চাষ করা যাবে।  ধানের চেয়ে সবজি চাষ লাভবান হওয়া য়ায়। ধান এখন কৃষকের জন্য বোঝা। ধানের লোকসান সবজিতে পুষিয়ে নিতে হবে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বলেন, গত মাসের ১৫ তারিখ থেকে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।  জেলায় আগাম জাতের আমন ধানের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। কম সময়ে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক এর দিকে ঝুঁকছে। রোগ বালাই দমন, ফলন বৃদ্ধি ও চাষ প্রসারে নীলফামারী কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই আগাম জাতের ধান আবাদ করে ওই জমিতে সবজি চাষ করেও লাভবান হচ্ছে।