প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম এবং সম্ভাব্য সভাপতি পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলামের লোকজনের মধ্যে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক মারামারি শুরু হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সভাপতি পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কমিজ উদ্দিন ও পাটগ্রাম থানার এসআই আশরাফুল আলমসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সম্মেলন মঞ্চের সামনে বসতে না বসতেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের ওপর পাথর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। শান্তিপূর্ণ সম্মেলন পণ্ড করতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বর্তমান সভাপতি ও শ্রীরামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি ঐহিত্যবাহী রাজনৈতিক দল। এখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন হবে। কিন্তু সভাপতি প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থনে মোটসাইকেলে কিছু লোকজন হঠাৎ কাউন্সিল স্থল প্রবেশ করে। আমি বললাম, কাউন্সিলর ছাড়া ডেলিগেটরা বাইরে থাকবে। এ কথা বলার পরেই দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মারামারি শুরু হয়।’
ওসি সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, ‘শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল ছিল। এতে আবুল হাসেম ও রফিকুল ইসলামের গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ সময় এসআই আশরাফুল আলম ও দুজন কনস্টেবলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কমপক্ষে ১২-১৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’