সেই নীলকুঠির খুলে ফেলা ইট দেখবে কে?

২০০ বছরের পুরাকীর্তি ভেঙে ইট নেওয়ার চেষ্টা পুলিশের jব্রিটিশ আমলে ইংরেজদের বানানো ঐতিহাসিক নীলকুঠির ইট গতকাল (২৪ ডিসেম্বর) খুলে ফেলে পুলিশ। পরে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ করা হয়। পুলিশ জানায়, ভবন নির্মাণের জন্য না জেনেই সেখান থেকে ইট খোলার নির্দেশ দেয় তারা। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ঘটনার একদিন পর স্থাপনাটির সামনে পড়ে আছে প্রায় তিন শতাধিক ইট। তবে এই ইট হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নটখানা এলাকার এই নীলকুঠির সামনে গিয়ে দেখা গেল, খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে কয়েকশ’ বছরের পুরাতন ইটগুলো। এই ইট কে সংরক্ষণ করবে তা নিয়ে সংশয়ে স্থানীয়রা।
ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমতাজ আলী প্রামাণিক বলেন, ‘গত মঙ্গলবার পুলিশের খসানো ইট ওই দালানের আশপাশেই পড়ে আছে। সেটি সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থা আমার নজরে আসেনি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজ দায়িত্বে পড়ে থাকা ইট রক্ষণাবেক্ষণে নজর রাখছি।’

পলাশবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শান্তিপদ রায় বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত দালানের লোহা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দালানের ইটগুলো মাটিতে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় হারানোর সম্ভাবনা বেশি। এখন পুলিশের উচিত এই ইট সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়া।’

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেখান থেকে ইট হারানোর কোন সম্ভাবনা নেই। গ্রাম পুলিশ দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে বলে দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের নটখানায় ১৮০০ সালে নীল চাষের একটি বড় খামার ছিল। ১৮৪৭-৪৮ সালে নীল চাষে লোকসান হওয়ায় কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে কৃষকদের ওপর নির্যাতন শুরু করে ব্রিটিশরা। ১৮৫৯-৬০ সালে কৃষকদের ব্যাপক আন্দোলনের ফলে নীল চাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়। তখন আন্দোলনের মুখে নীলকররা পালিয়ে যায়। সেই নীল খামার থেকে নীলফামারী নাম। ওই ভবনটি ব্যবহার হতো অবাধ্য কৃষকদের টর্চার সেল হিসেবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভবনটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
২০০ বছরের পুরাকীর্তি ভেঙে ইট নেওয়ার চেষ্টা পুলিশের