গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও বিভিন্ন জেলা থেকে কুড়িগ্রামে ফিরছেন লোকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই বিভিন্ন যানবাহনে এসব লোকজন এসেছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব মানুষের তালিকা করে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে এসব মানুষের মধ্যে কেউ করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিয়ে আতঙ্কিত কুড়িগ্রামবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সাতটি বাসে দুই শতাধিক শ্রমিক ফরিদপুর থেকে কুড়িগ্রামে এসেছেন। তারা ফরিদপুর জেলার আলতু জুটমিলে কাজ করতেন। মিল বন্ধ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পরিবহনে তাদের ফেরত পাঠায়।
জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ করা হলেও বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা কারখানার নিজস্ব গাড়িসহ বিভিন্ন উপায়ে জেলায় ফিরছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগকে ফেরত লোকজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বললেও তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্ভব হচ্ছে না।
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এত বেশি সংখ্যক মানুষ প্রবেশ করছে যে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের কাছে থার্মাল স্ক্যানার না থাকায় অধিক সংখ্যক মানুষের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তারা যেভাবে প্রবেশ করছেন তাতে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে কীভাবে নর্মাল থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করবেন। তাতে তাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমন চলতে থাকলে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরাও সংক্রমিত হবে। তা হলে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করে দিতে হবে।’
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন কবির বলেন, ‘বাইরে থেকে যেসব লোকজন উপজেলায় ফিরছেন আমরা তাদের প্রথমে একটি জায়গায় এনে তালিকা করছি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক ব্যক্তি জেলার রাজারহাট উপজেলায় এসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নূর ইসলাম সৌরভ নামে রাজারহাট উপজেলার বাসিন্দা জানান, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন রাজারহাটে ফিরে আসছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বললেও কেউ সেটা মানছেন না। তারা দাপটের সঙ্গেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে এলাকার মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেলা পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পুলিশ তাদের সর্বস্ব দিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন উপায়ে বাইরের জেলা থেকে লোকজন ফিরছেন। তারা সবাই এই জেলারই বাসিন্দা। তারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কাজ করতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাইরের জেলা থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে কোনও থার্মাল স্ক্যানার না থাকায় সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।’
থার্মাল স্ক্যানার না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জেলার সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জেলার ভুরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলার দুই স্থলবন্দরের জন্য দুটি থার্মাল স্ক্যানার দেওয়া হলেও তার একটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এছাড়া আমাদের আর কোনও থার্মাল স্ক্যানার নেই। ফলে নর্মাল থার্মোমিটার ছাড়া জ্বর বা তাপমাত্রা পরিমাপের কোনও ব্যবস্থা নেই।’
বাইরে থেকে আসা লোকদের তাপমাত্রা পরিমাপে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের সঙ্গে কথা বলে যদি কারও জ্বর থাকার কথা জানেন তাহলে তাদের পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে।’