পুলিশ জানায়, তিন ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালে পাঁচটি কাভার্ডভ্যান, ১০টি মোটরসাইকেল ও কোম্পানির বিভিন্ন কাগজপত্রসহ কম্পিউটারে অগ্নিসংযোগ করে শ্রমিকরা। এই সময় উত্তরা ইপিজেড, নীলফামারী ও সৈয়দপুর দমকল বাহিনীসহ তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলা ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর আশ্বাসে শান্ত হয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
ওই কারখানার কর্মরত শ্রমিকদের অভিযোগ, বেপজার বিধি লঙ্ঘন করে সময়ে অসময়ে শ্রমিক ছাঁটাই এবং টাকা বাঁচাতে দক্ষ শ্রমিকদের ছাঁটাই করে নতুন শ্রমিক নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি। ক্ষতিগ্রস্তরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও কাজ হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানায়, করোনা পরিস্থিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান সরবরাহ করে কোম্পানি। স্বল্প মূল্যের এসব উপকরণ প্রদান করে মাস শেষে বেতন থেকে এক হাজার টাকা করে কাটা হয়। তাছাড়া শ্রমিকরা ওভারটাইম করেও সঠিক মজুরি থেকে বঞ্চিত। মাস শেষে অতিরিক্ত কাজের কর্মঘণ্টা কম দেখিয়ে মজুরি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানায় ১৭ হাজার শ্রমিক কাজ করলেও করোনার সময় ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কারণে বর্তমানে শ্রমিক সংখ্যা সাত হাজারে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কারখানার কোনও কর্মকর্তা মুখ খুলতে রাজি হননি।
এই বিষয়ে উত্তরা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মো. এনামুল হক বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবির বিষয়গুলো মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে। ইপিজেডে এই কোম্পানিটিতে সমস্যা আছে। অন্যান্য কোম্পানিগুলো বেপজার আইন অনুযায়ী সবকিছু করে। কিন্ত এভারগ্রিন (পরচুলা) তা মানে না। আমি মনে করি এটা আলোচনা করে অবশ্যই সমাধান করা সম্ভব। এরই মধ্যে মালিক বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে শ্রমিকদের মাঝে তুলে ধরেছেন। উনি নিজও ক্ষমাও চেয়েছেন এবং বিষয়গুলো সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।’
জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। মালিক পক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন শ্রমিকদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবেন।’