কালীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, প্রায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার তুষভান্ডার রাজবাড়ী থেকে দলগ্রাম খোকা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ মিটার রাস্তা ১৬ ফুট চওড়া ও সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করে কালীগঞ্জ এলজিইডি। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিনিময় ট্রের্ডাস’ । কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও থিকনেস কম দিয়ে অনিয়ম করে আসছিল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ডাব্লু বিএম ৬ ইঞ্চির জায়গায় ৪ ইঞ্চি দিয়ে প্রাইম কোড করার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। তাতে কাজ না হলে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিআইওকে ফেরদৌস আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে যান। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের দাবি পরিপ্রেক্ষিতে এবং সত্যতা পাওয়ায় সাময়িকভাবে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা বদিউজ্জমান প্লাবন বলেন, আপাতত কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে শ্রমিকদের নিকট থেকে শুনেছি।
তিনি দাবি বলেন, যেভাবে কাজটি হচ্ছে তাতে থিকনেস কম বা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার প্রশ্নই আসে না। স্থানীয়রা ইউএনওকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। উপজেলা প্রকৌশলী বাইরে থাকায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখা রয়েছে। তিনি এসে সরজমিন দেখে অনুমতি দিলেই আবার কাজ শুরু হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মো. শামসুজ্জামান বলেন, অফিসিয়াল কাজে কর্মস্থলের বাইরে ছিলাম। স্থানীয়দের মাধ্যমে রাস্তার সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও থিকনেস কমের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি সরজমিন পরিদর্শন করে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আমি গিয়ে সরজমিন দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো, যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে সরজমিনে পরিদর্শন শেষে আপাতত সাময়িকভাবে রাস্তাটির সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রকৌশলীকে সরজমিনে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।