বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এসে মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এসে প্রেমিকের বিয়ের কথা শুনে প্রাণ গেছে এক অনার্স পড়ুয়া কলেজছাত্রীর। তবে কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে প্রেমিকের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) রাতে মেয়েটির মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নিজ বাড়ি থেকে প্রেমিকের বাড়িতে আসেন ওই কলেজছাত্রী। তবে কখন মারা গেছেন তা সঠিক বলতে পারেনি তার পরিবার।

মৃত ওই কলেজছাত্রীর নাম মরজিনা বেগম (২১)। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী ও হরিপুর উপজেলার ৪ নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়ন এর চৌরঙ্গী রনহাট্টা গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

প্রেমিক রাসেল আলীর বাড়ি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পিতাইচুরি গ্রামে। সে ওই এলাকার সায়েদ আলীর ছেলে।

বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্রী মরজিনা বেগম বিয়ের দাবিতে প্রেমিক রাসেলের বাড়িতে আসেন। রাসেলের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে গেছে শোনার পর ট্যাবলেট খান। প্রেমিকের পরিবারের লোকজন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানকার ডাক্তার তাকে রংপুরে রেফার্ড করে। পরে সেখানে সে মারা গেছে বলে প্রেমিক দুই পরিবার আমাকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে মেয়েটির এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান শনিবার বালিয়াডাঙ্গী থানায় আসার কথা রয়েছে।

মেয়ের বাবা সাইফুল ইসলাম ও ভাই জানান, পাঁচ বছর ধরে রাসেল ও মরজিনার সম্পর্ক। আদালতে বিয়ে করেছে বলে আমাদের জানিয়ে একাধিকবার রাসেল আমার বাড়িতে রাতযাপনও করেছে। আমরা দুই জনের সম্পর্ক মেনেই নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃহস্পতিবার সকালে মরজিনা কাঁদতে কাঁদতে রাসেলের বাড়িতে যায়। এরপরে আমরা মৃত্যুর খবর পাই।  

মেয়ের বাবার অভিযোগ, আমার সহজ সরল মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বনাশের পর রাসেল গোপনে বিয়ে করেছে। আমার মেয়ে সহ্য করতে না পেরে তার কাছে গেলে ট্যাবলেট খাইয়ে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা আইনের আশ্রয় নেবো।

শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী থানায় কলেজছাত্রীর পরিবার কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি।