দিনাজপুরের হিলিতে অন্যান্য এলাকার তুলনায় খানিকটা আগে ভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাইতো লেপ-তোষক তৈরি করতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে দোকানগুলোয়। দোকানদার ও কারিগররাও ক্রেতাদের চাহিদা মতো লেপ-তোষক সরবরাহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে শীত পড়লেও করোনার কারণে আগের মতো বেচাকেনা নেই। শীতের তীব্রতা বাড়লে বেচাকেনা বাড়বে বলে মনে করছেন দোকানি ও কারিগররা।
গতকয়েকদিন ধরেই শীত পড়তে শুরু করায় বাংলাহিলি বাজারের তুলাপট্টিতে তুলার দোকান ও লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই শীতের জন্য লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করে করছেন।
লেপ-তোষকের কারিগর লুৎফর রহমান ও সবুজ হোসেন জানান, বছরের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের অলস সময় কাটাতে হয়। অনেকটা বসে বসে থাকতে হয়। কিন্তু শীতের ২-৩ মাস আমাদের সিজিন। যার কারণে এই সময়ে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেশি থাকে। ইতোমধ্যেই গত কয়েকদিন ধরে হিলিতে শীত পড়তে শুরু করেছে। যার কারণে আমাদের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। এতে করে আমাদের লেপ-তোষক তৈরির কাজের চাপ যেমন বেড়েছে তেমনি আমাদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা মতো লেপ-তোষক তৈরি করে আমাদের এসব ডেলিভারি দিতে হচ্ছে। একেকজন কারিগর প্রতিদিন ৫-৬টি করে লেপ বানাচ্ছি তাতে করে আমাদের প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকার মতো হাজিরা পাচ্ছি। তাতে করে আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালোভাবেই চলছি। তবে আশা করছি সামনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে লেপ-তোষকের চাহিদা যেমন বাড়বে তেমনি আমাদের কাজের চাপও বাড়বে আর কাজের চাপ বাড়লে মজুরিও বাড়বে।
ক্রেতা ছালমা খাতুন ও আকতার হোসেন জানান, এবারে কিছুটা আগে ভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই লেপ-তোষক তৈরি করতে বাজারে এসেছেন। এছাড়াও মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তাই মেয়ে-জামাইয়ের জন্যও লেপ-তোষক ও বালিশ দিতে হবে। সেজন্য বাজারে কিনতে এসেছি। তবে তুলার দাম খানিকটা বেশি চাচ্ছে দোকানিরা। যে তুলা ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করেছে সেই তুলা এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা চাচ্ছে। তাই তুলাসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে লেপ-তোষকের দাম খানিকটা বেশিই মনে হচ্ছে, তবে গতবার দাম কম ছিল।
ভ্যানচালক আব্দুর রহিম বলেন, কয়েকদিন হলো শীত পড়েছে। কিন্তু বাড়িতে শীতের লেপ বা কাথা নেই যার কারণে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। তাই বাজারে এসেছি তুলা কিনতে, তুলা কিনে বাড়ি নিয়ে গিয়ে লেপ বানাবো। তবে গতবারের চেয়ে এবার তুলার দাম একটু বেশি।
হিলি বাজারের তুলার দোকানি আব্দুল খালেক বলেন, বছরের মধ্যে শীতের দুই থেকে তিনমাস আমাদের সিজিন। এই সময়ে লেপ তোষক বিক্রিও যেমন বাড়ে তেমনি কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করেন। কিন্তু বাকি ৮/৯ মাস অনেকটা অলস সময় পার করতে হয়। গতকয়েকদিন থেকে ইতোমধ্যেই আমাদের এলাকায় শীত পড়ে গেছে। ফলে লেপ তোষক বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। করোনার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে বেচাকেনা খানিকটা কম। শীতের তীব্রতা বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদা খানিকটা বাড়তে পারে।