তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। মেঘ আর কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। জেলার চরাঞ্চলগুলোতে হিম বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেশি। জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির।
জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার (কৃষি ও সিনপটিক) জানায়, রবিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের সর্বনিম্ন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়ার খুব একটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, আজ লালমনিরহাটেও তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, জেলায় বোরো রোপণের ভরা মৌসুম চলায় তীব্র শীত উপেক্ষা করেই মাঠে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক ও দিনমজুররা। শৈত্য প্রবাহের মধ্যেই বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনসহ কাদা পানিতে নেমে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। শীতে জড়োসড়ো হয়েই কাজে বের হয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।
জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গাধর নদের দ্বীপচর নারায়ণপুরের বাসিন্দা বাশার জানান, ঠান্ডায় এলাকার মানুষের অবস্থা কাহিল। খুব প্রয়োজন না হলে লোকজন তেমন বাইরে বের হচ্ছে না। শীতবস্ত্রের অভাবে মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।
একই উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও তরুণ সমাজকর্মী মামুন জানান, তীব্র ঠান্ডায় এলাকায় বয়স্ক ও শিশুদের অবস্থা কাহিল। বাধ্য হয়ে অনেকে আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নিচ্ছেন। এলাকায় শীতবস্ত্রের প্রয়োজন বলেও জানান এই সমাজকর্মী।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা জানায়, জেলার ৯ উপজেলায় ৩৫ হাজার কম্বল এবং ৯ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য উপজেলা প্রতি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র জানান, জেলায় বর্তমানে তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করলেও খুব একটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকবে।