নিজেদের জীবিত প্রমাণের চেষ্টায় সরকারি দফতরে ঘুরছেন তারা

দিনাজপুরের হিলিতে জীবিত থাকলেও হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অনেককে মৃত দেখানো হয়েছে। এতে করে তারা পাচ্ছে না কোন সরকারি সহযোগিতা। এমনকি করতে পারছে না বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম। তাই বাস্তবে জীবিত থেকেও কাগজপত্রে মৃত অবস্থা থেকে নিজেদের জীবিত প্রমাণের চেষ্টায় সরকারি দফতরে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, হাকিমপুর উপজেলায় ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো এমন অবস্থা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যেই সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন ৮ জন। এছাড়াও বিভিন্ন ভুল ত্রুটি সংশোধনের জন্য অনেকে ঘুরছেন নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে।

হিলির খাট্টাউছনা হিন্দুপাড়া গ্রামের মিনতী বালা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এখনো জীবিত আছি কিন্তু ভোটার তালিকায় আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এজন্য আমি ভোটকেন্দ্রে গিয়েও ভোট না দিয়ে ঘুরে আসতে হয়েছে। এরউপর আমরা গরীব মানুষ কাজ কর্ম করে খাই, সরকারি ১০ টাকা কেজির চাল পেতাম সেটিও আর পাচ্ছি না এই ঝামেলার কারণে। কোন এনজিও বা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিছু করবো সেটিও পারছি না। সবাই বলছে, আপনি ‘মৃত’ যার কারণে খুব ঝামেলার মধ্যে পড়ে আছি। আমি চাই, যেমন জীবিত আছি তেমনিভাবে কাগজেও জীবিত করা হোক; যেন ভোট দিতে পারি। এছাড়াও অন্যান্য যে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা সেগুলোও যেন পেতে পারি এই ব্যবস্থা করা হয়।’

হিলির পালপাড়া গ্রামের সাবেক যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এখনো জীবিত আছি, আল্লাহ এখনও আমাকে তুলে নেয়নি। কিন্তু সরকারি নির্বাচনে আমি যখন ভোট দিতে যাই, ভোটার লিস্টে আমার নাম না থাকার কারণে ভোট দিতে পারিনি। একই অবস্থা সম্প্রতি হয়ে যাওয়া পৌরসভা নির্বাচনেও। জীবিত থাকা অবস্থায়ও আমাকে মৃত ঘোষণা করেছে। ভোটার তালিকায় নাম নেই তাই ভোট না দিতে পেরে বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে, যার কারণে খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি একটা পঙ্গু মানুষ, কিন্তু কাগজে মৃত হওয়ার কারণে সেটিও বেশ কিছুদিন ধরে পাচ্ছি না। দুই মাস হয়ে গেলো কাগজপত্র দিয়েছি, ঠিক করার জন্য কিন্তু কোন গুরুত্ব নেই। আমি চাই আমার এই সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান।’

হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দেখি, আমার নাম বা লিস্ট কোন কিছুই নেই। তখন নির্বাচন অফিসে গেলে তারা আমাকে মৃত বলে আখ্যায়িত করেছে। আমি একজন পেঁয়াজের ব্যবসায়ী। হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করে থাকি। যার কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে অনেক টাকা-পয়সার লেনদেন করতে হয়। আমার বিভিন্ন জায়গায় যেতে গেলে ও পাসপোর্ট করতে গেলেও এমনকি ব্যাংকের একাউন্ট করতে গেলেও এনআইডির সমস্যার কারণে কোন কিছুই করতে পারছি না। নির্বাচন অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়েছি ঠিক করতে কিন্তু তারা আজ কাল করে ঘুরাচ্ছে।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শফিকুর রহমান আকন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি সদ্যই হাকিমপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার পদে যোগদান করেছি। যোগদানের পরেই দেখতে পায় যে কিছু মৃত ব্যক্তির তালিকা চলে আসছে। এগুলো পূর্ববর্তী কর্মকর্তার দায়িত্বে হালনাগাদের সময় হয়েছে। এটার পদ্ধতি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছে যে তারা মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু আসলে দেখা গেলো যে উনি মৃত্যুবরণ করেননি, একারণে অনেকের নাম মৃত্যুর তালিকায় চলে আসছে। আমি এই তালিকাগুলো জেলা নির্বাচন অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি এখন সেগুলো সংশোধনের কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।