আট বছর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী রেবেকা খাতুন। শুধু তাই নয়, চিরতরে হারিয়েছেন মা, দুই দাদী ও দুই চাচাতো ভাইবোনকে। সেই দুর্ঘটনার ৮ বছর পূর্তির দিনে রেবেকা খাতুনকে ৭ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ি প্রদান করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।
বাড়ি পেয়ে তার শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া দুই পায়ের কষ্ট হয়তো ভুলতে পারেননি, তবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন এমন সহযোগিতায়। কারণ তার দিনমজুর স্বামীর পক্ষে সংসারের ব্যয়ভার মিটিয়ে এরকম বাড়ি করা হয়তো স্বপ্নই থেকে যেতো।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে বারাই গ্রামে নবনির্মিত রেবেকার বাড়ির চত্বরে ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বাড়ি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী।
ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ার প্রোগ্রামের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রোগ্রামের ডেপুটি ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম নাহিন, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন, ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশরাফ হোসাইন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সবুজ সাহা, এলাকা ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে বাড়ির উদ্বোধনসহ রেবেকা খাতুনের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়।
রেবেকা খাতুন বলেন, আমার শ্বশুরের পাঁচ ছেলে। চার শতক জমিতে পাঁচ ভাইয়ের সংসার ছিল। জরাজীর্ণ মাটির ঘরে থাকতে হতো। ব্র্যাকের বিভিন্ন সহায়তা ইতোপূর্বে পেয়েছিলাম। তাই ব্র্যাকের ভাইদের কাছে একটা বাড়ির আবেদন করি। পরে তারা আমার জমির ওপর পাকা বাড়ি বানিয়ে দেন। আজকের দিনে বাড়ি পেয়ে সেই বিভীষিকাময় দিনটাকে কিছুটা হলেও ভুলে গেছি।
ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশরাফ হোসাইন বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণকারীদেরকে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেবেকার আবেদনে তাকেও বাড়ি বানিয়ে বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় রেবেকা খাতুন তার দুইটি পা হারিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে একটি পা হারানোর টাকা পেয়েছেন। তার বঞ্চিত হওয়া পাওনা অর্থ প্রদান করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।