মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলমের বাবা লুৎফর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। রবিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দিনাজপুর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অপহরণের ঘটনার পর আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুৎফর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে দেয়। আমরা আদালতের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হন্তান্তর করেছি। ইতোমধ্যেই তিনি বাড়িতে ফিরে গেছেন।’ তিনি কেন আত্মগোপনে ছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘হয়তো ভয়ে ছিলেন। তিনি এমনিতেই অসুস্থ ছিলেন, পাশাপাশি তার হৃদরোগের সমস্যা আছে। এ ছাড়া তিনি ডায়াবেটিসের রোগী। তাই আমরা তাকে কোনোরকম জিজ্ঞাসাবাদ করিনি।’
পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভয়ে আত্মগোপনে থাকা কোনও ব্যক্তিকে নির্ভয় প্রদান করে উদ্ধার করা পুলিশের দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সেই হিসেবেই তাকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর সোহাগের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হককে শনিবার বিকালে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই মামলায় মোট ছয় জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার ১০ জনের নাম ছাড়াও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জানা গেছে, পলাশ নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই সালেমান শাহ পাড়া এলাকার লুৎফর রহমানের বাড়িতে ছয়-সাত জন ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাড়ির আলমারি, শোকেসসহ বিভিন্ন স্থান তছনছ করে। পরে তারা লুৎফর রহমানকে না পেয়ে স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে অপহরণকারীরা স্বজনদের কাছে ফোন করে ভিকটিমদের ফেরত দিতে জন্য ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি চিরিরবন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই মধ্যে তারা অপহরণকারীদের আট লাখ টাকা দিতে চান। সেই টাকা নিতে আসলে বাশেরহাট এলাকায় আসলে পুলিশ অপহরণকারীদের আটক করে।
এই ঘটনায় অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক, মাইক্রোবাস চালক হাবিব, নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার এনামুল হকের ছেলে ফসিহ উল আলম পলাশকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তারা আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন– চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রামের মৃত এন্তাজুল হকের ছেলে আরেফিন শাহ, শহরের ৬নং উপশহর খেরপট্টি এলাকার সোহেল, সুইহারী চৌরঙ্গী বাজারের রিয়াদ, ২নং উপশহর এলাকার সুমন ও ৩নং উপশহর এলাকার জাহিদ। মামলায় বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, প্রাণনাশের হুমকিসহ ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৮০/৩৮৫/৩৬৫/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ ধারা দেওয়া হয়েছে।