জিয়াউর রহমান যুদ্ধ না করলে দেশ স্বাধীন হতো না: ফখরুল

জিয়াউর রহমান ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধই শুরু হতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন , ‘জিয়াউর রহমানের সম্পর্কে সরকার অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় তার মুক্তিযুদ্ধ করা নিয়ে কথা বলে। জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে যুদ্ধ না করলে এই দেশ স্বাধীন হতো না, এটা বাস্তবতা। এসব কটূক্তি করা বাদ দেন। মিথ্যাচারিতা বাদ দিয়ে মানুষের সমস্যা সমাধান করুন। এখনও সময় আছে পদত্যাগ করেন, ব্যর্থতার জন্য এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশটাকে এবং মানুষকে রক্ষা করেন। নাহলে এই মানুষ আপনাদের ঘাড় ধরে ক্ষমতা থেকে  নামাবে।’

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জামায়াত ইসলামী একটা রাজনৈতিক দল। তাদের রাজনীতি করার অধিকার  আছে। আমাদের দেশ, সংবিধান সেটা তাদের দিয়েছে। সরকারি দলের চুনোপুঁটিরাও রুই-কাতল হয়ে গেছে। আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা গরিব থেকে আরও গরিব হয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা সরকার কীভাবে পরিবর্তন করবো, এখন পর্যন্ত সেটাই ঠিক করতে পারলাম না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দাবিতেই আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলাম। চারটা নির্বাচনও সুন্দরভাবে হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যখন বুঝতে পারলো, জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তখন তারা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলো। আজকে গোটা বাংলাদেশ অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে আছে। বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল, কিন্তু তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভয়ংকরভাবে হত্যা করে সেই আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা। সরকার রাজনীতি করার কোনও সুযোগ রাখছে না। মিটিং, মিছিল, প্রতিবাদ করার সুযোগ পর্যন্ত নেই। কেউ কথা বলতে পারবে না, কথা বললেই তার বিরুদ্ধে মামলা। দেশের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এটা বিএনপির সংকট না, পুরো জাতির সংকট। এই সংকট থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। গোটা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করছে। আমরা কখনও শুনিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর দুর্নীতি করেছে। তারা নিয়োগ বাণিজ্য করে। কিন্তু এখন করছে কারণ সেখানে এখন আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়ে গিয়ে বসাচ্ছে। যাবো কোথায়? যে পুলিশের কাছে আমরা যাই চোর ডাকাত ধরার জন্য তারাই এখন চোর ডাকাত হয়ে বসে আছে। আওয়ামী লীগ লুটপাট করছে, এটা প্রতিরোধ না করলে দেশ তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে। জনগণ জেগে উঠলে সবাই পালাতে বাধ্য হবে। সেই জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সেটাই হচ্ছে বিএনপির দায়িত্ব। ইনশাল্লাহ শক্তি নিয়ে এই দানব সরকারকে সরাতে সক্ষম হবো। দেশটা পুরোপুরি জেল হয়ে গেছে। আমরা সবাই জেলের মধ্যেই আছি। আসুন আমরা সবাই মিলে এই জেলটাকে একবার ভাঙার চেষ্টা করে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন প্রমুখ।