পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সাত ইউনিয়ন পরিষদে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন আগামী ১১ নভেম্বর। জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত। এরই মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মা-মেয়ে। একই ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন জীবন নাহার ও তার মেয়ে বুলবুলি আকতার। ভোট দেওয়া নিয়ে স্বজনরা বিপাকে পড়লেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দুজনেই।
উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। মা জীবন নাহার ওই ওয়ার্ডে দুইবার নারী ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ওই ওয়ার্ডের বর্তমান সংরক্ষিত নারী সদস্য। হেলিকপ্টার প্রতীকে এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
একই ওয়ার্ডে মায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন জীবন নাহারের মেয়ে বুলবুুলি আকতার। তিনি বক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জয়ের আশা দুজনরেই। তবে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও ভোটাররা পড়েছেন বিপাকে। মনোমালিন্য ও পারিবারিক বিবাদের কারণে মা ও মেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মধ্যে অসন্তোষসহ কথা বলা ও বাড়িতে যাতায়াতও বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, ইসমাইল হক তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জীবন নাহার গত দুইবার ধরে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তার মেয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তার নির্বাচনে এতে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানান জীবন নাহার।
বুলবুলি আকতার জানান, বয়সের ভারে বর্তমানে কিছুটা অসুস্থ তার মা। গত ইউপি নির্বাচনে জীবন নাহার এলাকাবাসীদের বলেছিলেন, ‘এটা আমার শেষ নির্বাচন। এরপর আমার মেয়ে প্রার্থী হবেন’। এটা পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে এলাকাবাসীর সঙ্গে নিজ বাসায় সভা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন জীবন নাহার। সহযোগিতা করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি বলে দাবি বুলবুলির।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার মায়ের পরিষদের সম্পূর্ণ দাফতরিক কাজ চালিয়েছি। সরকারি সব সেবার তালিকা করেছি। নির্বাচনে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হবো।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, একই ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদে মা ও মেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের আইনকানুনে, বিধিবিধানে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিও প্রার্থী হতে পারেন। সৎ, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের ভোটাররা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। এক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই।