রংপুরের হারাগাছে পুলিশের নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে থানা ঘেরাও করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মারুফ হোসেন এক যুবক মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোমবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুরের হারাগাছ নতুন বাজার পাকার মাথায় মৃত শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে তাজুল ইসলামকে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে হ্যান্ডকাফ পরায়। একপর্যায়ে পুলিশের নির্যাতনে ওই যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনা জানাজানি হলে শত শত জনতা হারাগাছ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দায়ী পুলিশদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট নিক্ষেপ, ফাঁকা গুলি বর্ষণ এবং লাঠি চার্জ করে পুলিশ। খবর পেয়ে রংপুর থেকে শতাধিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকদফা জনতার সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের দাবি, পুলিশ কোনও কারণ ছাড়াই তাজুল ইসলামকে মাদক ব্যবসায়ী বলে আটক করে। তার শরীর তল্লাশি করে কিছু না পেলেও তাকে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারধর শুরু করে। একটু পর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং মারা যায়। একই কথা জানালেন নতুন বাজার এলাকার সাহাবুল, মনতাজুরসহ অনেকেই। তারা এ ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশদের গ্রেফতার করে বিচার দাবি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, হারাগাছ থানার কতিপয় এসআই ও এএসআই নিরীহ মানুষদের অকারণে আটক করে মাদক ব্যবসায়ী বলে টাকা দাবি করেন। যারা টাকা দিতে চান না তাদের ধরে নিয়ে যান এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন করেন।
এদিকে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ১০টা) তাজুল ইসলামের লাশ ঘটনাস্থল নতুন বাজার এলাকায় পড়ে আছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে পারেনি। দাঙ্গা পুলিশ এসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এখনও বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষ চলছে। পুলিশের লাঠিচার্জে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে হারাগাছ থানার কোনও পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে অবস্থানরত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ মারুফ হোসেন বলেন, ‘তাজুল ইসলাম নামের যুবক কীভাবে মারা গেছেন তা খতিয়ে দেখছি। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে।’