কেন্দ্রে কেন্দ্রে গেলো ভোটের সরঞ্জাম, সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন

দ্বিতীয় ধাপে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) নীলফামারী জেলা সদরের ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলা প্রশাসন রয়েছে কঠোর অবস্থানে। নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগত প্রবেশে বাধাসহ আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। 

বুধবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে ১০০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ ভোটের সরঞ্জামাদি পাঠানো শুরু হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ওসব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার হাতে নির্বাচনি সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়। তবে ব্যালট পেপার দেওয়া হয়নি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপার ভোটের দিন সকাল ৭টার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাই ব্যালট পেপার ছাড়াই এসব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেন।

নির্বাচনে লড়ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬৪ জন, সংরক্ষিত আসনে ১৪৭ জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৮৩ জন। এ ছাড়া ১১টি ইউনিয়নের ১০০ ভোটকেন্দ্রের ৩৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এর মধ্যে চওড়া বড়গাছায় তিনটি, গোড়গ্রামে চারটি, পলাশবাড়িতে দুটি, রামনগরে চারটি, কচুকাটায় তিনটি, পঞ্চপুকুরে দুটি, সোনারায়ে তিনটি, সংগলশীতে তিনটি, চড়াইখোলায় তিনটি, চাপড়াসরমজামীতে দুটি ও লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে পাঁচটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনি এলাকায় পুলিশ এবং র‌্যাব টহল দিচ্ছে। কাউকে বহিরাগত সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল পেলে জব্দ করা হচ্ছে। বুধবার (১০ নভেম্বর) থেকে প্রচার প্রচারণা বন্ধ রয়েছে।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সুত্র মতে সদরের ১১টি ইউনিয়নের ১০টিতে রয়েছে ৯টি করে কেন্দ্র ও চড়াইখোলা ইউনিয়নের ১০টি। এতে সর্বমোট ১০০ টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।

পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ এবং র‌্যাব টহল দিচ্ছে। বহিরাগত সন্দেহ হলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রতি ইউনিয়নে ভোটারদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে অবগত ও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইজিপির নির্দেশনা মোতাবেক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি আমরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাচনের আগে-পরে পুলিশ সক্রিয় থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের আগে-পরে যেন সহিংসতা না ঘটে সে জন্য পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

বুধবার (১০ নভেম্বর) সকালে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আগামীকাল (১১ নভেম্বর) সদরের ১১টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১০০টি ভোটকেন্দ্রে ১০০ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৫৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ১৭২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটর সংখ্যা রয়েছে দুই লাখ ১২ হাজার পাঁচ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ছয় হাজার ৮৯৮ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ১০৭ জন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটগ্রহণে ব্যালট পেপার ভোটের দিন সকাল ৭টার মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে। যা পত্রের মাধ্যমে প্রিসাইডিং অফিসারদের অবগত করা হয়েছে।

গত ৬ নভেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হয় যা গত ৯ নভেম্বর শেষ হয়।