দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হিলিতে আগে ভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে লেপ-তোশক কিনতে দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এসব পণ্যের বিক্রি যেমন বেড়েছে, তেমন ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। তবে এবার তুলা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতা-বিক্রেতারা।
কয়েকদিন ধরে হিলিতে শীত পড়ায় বাজারে তুলার দোকানগুলোতে লেপ-তোশক বানাতে ভিড় করছেন অনেকে। কেউবা তুলা কিনতে দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। আগে প্রতিটি লেপ ৯০০ টাকা করে বিক্রি হলেও, বর্তমানে তা বেড়ে এক হাজার থেকে ১৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর তোশক দুই হাজার থেকে বেড়ে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে লেপ কিনতে আসা আনিসুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে হিলিতে শীত ও কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। আগের লেপ-তোশক যেগুলো ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আবার বানাতে এসেছি। তবে তুলার দাম বেশি হওয়ায় মজুরি খরচসহ অনেক বাড়তি টাকা চাচ্ছে দোকানিরা। আগে যে লেপ বানাতে ২০০ টাকা মজুরি নিতো এখন সেটা ৩০০ টাকা নিচ্ছে।
লেপ-তোষক ক্রেতা ফেরদৌসি বেগম বলেন, রেওয়াজ আছে, নতুন জামাই-মেয়েকে লেপ-তোশক দিতে হবে। তাই হিলি বাজারে তুলার দোকানে এসেছি। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে দাম তুলার দাম শুনে গেলাম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। আজ কিনতে এসে চাচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি।
লেপ-তোষকের কারিগর আরমান হোসেন বলেন, বছরের মধ্যে ৮ থেকে ৯ মাস অলস সময় কাটাতে হয়। কিন্তু শীতের দুই থেকে তিন মাস আমাদের মৌসুম। গত কয়েকদিন ধরে শীত পড়ায় লেপ-তোশকের চাহিদা বেড়েছে। তাই আমাদের কাজের ব্যস্ততাও বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদামতো লেপ-তোশক তৈরি করে তা ডেলিভারি দিতে হচ্ছে।
তুলা দোকানি আব্দুল খালেক বলেন, তুলা ও কাপড়ের দাম বেশি। তুলার দাম কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে কাপড়ে গজপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বাড়তি দাম শুনে অনেক ক্রেতা চলে যাচ্ছে। তবে আগের চেয়ে কাজের চাপ বেড়েছে। সামনের দিনে শীতের মাত্রা বাড়লে বেচাকেনা আরও বাড়বে।