তেলের দাম বাড়ায় হিলিতে লক্ষ্যমাত্রার বেশি সরিষা চাষ

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় এবার দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে সরিষার আবাদ। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো পাওয়ার আশা কৃষকদের। আগামীতে সরিষার চাষাবাদ আরও বৃদ্ধির আশাবাদ কৃষি বিভাগের।

রবিবার (০২ জানুয়ারি) সরেজমিনে হিলির বিভিন্ন এলাকার ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠঘাট। সরিষার ফুলে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছিরা মধু আহরণে ব্যস্ত। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা মাঠ।

হিলির ছাতনি গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরিষা চাষাবাদের ফলে পরিবারের যে তেলের চাহিদা তা পূরণ হয়। পাশাপাশি সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের জন্য পানির দাম পরিশোধসহ সার কিনতে পারি। বিঘা প্রতি পাঁচ-ছয় মণ সরিষা পাওয়া যায়। এবার সরিষার ভালো ফলন হয়েছে। লাভবান হবো আশা করছি।

স্থানীয় কৃষক সিদ্দিক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাধারণত আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগ পর্যন্ত জমি খালি পড়ে থাকে। এই সময়ে জমি ফেলে না রেখে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষাবাদ করেছি। আর ধান কাটার পর সেই জমিতে দুটি চাষ দিয়ে সরিষা লাগানো যায়। তাতে করে বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়।

তিনি বলেন, সরিষা চাষাবাদের ফলে আমন ও বোরো ধানের মাঝে উপরি ফসল পেয়ে আমাদের লাভ হয়। পাশাপাশি নিজেদের তেলের চাহিদা পূরণ হয়। খৈল পাওয়া যায়। সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। সরিষার শাক বিক্রি হয়। তবে সরিষা চাষাবাদে তেমন খরচ নেই বললেই চলে। পানি, সেচ ও সার তেমন লাগে না। শুধু সরিষা লাগালেই হয়। সরিষার ক্ষেত গরু-ছাগলেও খায় না। এ জন্য বাড়তি কোনও চিন্তা করতে হয় না।

স্থানীয় কৃষক সুজন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাজারে সয়াবিনসহ অন্যান্য তেলের দাম বাড়ায় গত মৌসুমে সরিষার ব্যাপক চাহিদা ছিল। গত বছর প্রতি মণ সরিষা তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। এবারও সরিষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গাছ দেখে বোঝা যায় ফলন ভালো হয়েছে। লাভের আশায় সরিষা চাষাবাদ করেছি। তবে সরিষা চাষাবাদে কোনও লোকসান নেই। দিন দিন সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৩০ হেক্টর জমিতে। এক হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। এর মূল কারণ সরিষা চাষ সম্প্রসারণের জন্য আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। সরকারিভাবে ৯৬০ জন কৃষককে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সরিষা চাষাবাদের উপকারিতা কৃষকদের কাছে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি তেলের দাম বেড়ে গেছে। এ জন্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে এবার বেশি পরিমাণ সরিষা চাষ করেছেন। আমরা আশাবাদী, আগামীতে সরিষার চাষাবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে। সেই সঙ্গে কৃষকরা লাভবান হবেন।