পঞ্চগড়ে ৪৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ১৮ জন

পঞ্চম দফায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চার জন এবং স্বতন্ত্র চার প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ উপজেলায় ৪৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন জামানত হারিয়েছেন।

বুধবার রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. এরশাদুল হক মিয়া বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।

চেয়ারম্যান পদে চিলাহাটি ইউনিয়নে বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৫৩৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে আট চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে চার জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন– আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুর রাজ্জাক সরকার (ঘোড়া), জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন (আনারস) ও মেহেদী হাসান (অটোরিকশা)।

টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. গোলাম রহমান সরকার নৌকা প্রতীকে ৭২১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে চার চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু মোতালেব বাবুল (মোটরসাইকেল) জামানত হারিয়েছেন। 

দন্ডপাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আজগর আলী নৌকা প্রতীকে ৪৯১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে দুজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী ভবেশ চন্দ্র রায়  (মোটরসাইকেল) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আছিমউদ্দিন (হাতপাখা)।

সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মশিউর রহমান ৩৫০৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন– আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহের (চশমা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ (টেলিফোন)।

চেংঠিহাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুর রহমান বুলু মাস্টার নৌকা প্রতীকে ৪৮৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে ছয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে তিন জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (চশমা), মোমিনুর রহমান (আনারস) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ফরিদুল ইসলাম (হাতপাখা)।  

সুন্দরদিঘী ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হালিম কাজী ৬৭৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে চার জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী বাসুদেব রায় (আনারস) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মো. ছানাউল্লাহ (হাতপাখা)।

পামুলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বাবু মণিভূষণ রায় নৌকা প্রতীকে ৩৭৩১ পেয়ে ভোট নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিন জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন– ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মনিরুজ্জামান হবি সিদ্দিকী (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান (মোটরসাইকেল), বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলে হায়দার প্রধান (ঘোড়া), রেজাউল ইসলাম (চশমা)।

শালডাঙ্গা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফরিদুল ইসলাম ফরিদ ঘোড়া প্রতীকে ৪৬৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে চার প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিক (মোটরসাইকেল) জামানত হারিয়েছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার জানান, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে ওই প্রার্থী জামানত হারাবেন।