বগুড়ায় মাদক, জুয়া ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গুলিবিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জ (২৮) মারা গেছেন।
সোমবার (১০ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। অরেঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত ২ জানুয়ারি রাতে শহরের মালগ্রাম এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
সদর থানার ওসি সেলিম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় অরেঞ্জের স্ত্রী মামলা করেছিলেন; সেটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হবে। আগের মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকায় মাদক, জুয়ার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অস্ত্রের মহড়া চলছিল। গত ২ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাসেল, রাসানী ও সুমনের নেতৃত্বে কয়েকজন শহরের মালগ্রামের ডাবতলা এলাকায় আসেন। তারা সেখানে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ সময় নাজমুল হাসান অরেঞ্জ এবং তার বন্ধু একই সংগঠনের ওয়ার্ড কমিটির নেতা মালগ্রাম ডাবতলার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মিনহাজ শেখ আপেল (২৫) গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অরেঞ্জের চোখের নিচে ও আপেলের পেটে গুলি লাগে। পরদিন অরেঞ্জের স্ত্রী স্বর্ণালী আক্তার সদর থানায় রাসেলসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে, সোমবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসকরা আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাজমুল হাসান অরেঞ্জকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মালগ্রাম ডাবতলা ও মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাত ১২টার দিকে সদর থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, অরেঞ্জের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার স্ত্রীর আগের করা মামলাটি হত্যায় মামলায় রূপান্তরিত হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।