নীলফামারীর ডিমলায় বোরো ধান চাষ শুরু হয়েছে। কেউ জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত, কেউ চারা উত্তোলন করছেন, কেউবা জমিতে চারা রোপণের কাজ করছেন। তবে তেলের দাম বাড়ায় বোরো চাষে খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।
জেলা শহরের গাছবাড়ী রোড সংলগ্ন রশিদা ফিলিং স্টেশনের মিটার রিডার মতিবুল ইসলাম জানান, দেড় মাস আগে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছিল ৬৫ টাকা ২০ পয়সা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা ২০ পয়সা দরে। প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা।
এবার জেলায় ৮১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এর মধ্যে সদরে ২৩ হাজার ৬৮০ হেক্টর, ডোমারে ২৩ হাজার ২২০, ডিমলায় ১১ হাজার ১৮৫, জলঢাকায় ১৪ হাজার ৬৬০, কিশোরগঞ্জে ১১ হাজার ১৫৫ ও সৈয়দপুরে ৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ১৩০ হেক্টর।
জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, আগাম বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। আবার অনেকেই বীজতলাসহ জমিও তৈরি করছেন। তবে তেলের দাম বাড়ায় বেশির ভাগ কৃষক পড়েছেন বিপাকে।’
এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকের সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার ভর্তূকি দিচ্ছে। ডিমলা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১১ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর চার হাজার ৩০০ কৃষকের মধ্যে হাইব্রিড ও উফশী জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বোরো ধান চাষ করার জন্য আমরা কৃষকদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দিচ্ছি। এ উপজেলায় আগের তুলনায় বোরো চাষ অনেক বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার খরচ কিছুটা বাড়লেও তেমন কোনও সমস্যা হবে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, এবারে জেলায় ৮১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে তেল ও বীজের ওপরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নির্ভর করবে।