পঞ্চগড়ে শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে গেছে জনজীবন। তীব্র শীতে কাজে যেতে পারছেন না শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষি শ্রমিকরা। ঠাণ্ডার প্রকোপে দেখা দিয়েছে সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত নানা রোগ। পঞ্চগড়ে গত তিন দিন থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা ক্রমশ কমছে। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এবং এ শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শনিবার এখানে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে থাকতে দেখা যায় যায় । উত্তরের হিমেল বাতাসে মাঘের কনকনে হাঁড় কাপানো ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়বাসী। মাঘের এই কনকনে শীতে অসহায় দরিদ্র আর ছিন্নমূল মানুষ কষ্ট বেড়েছে। তবে শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট শিশু আর বয়স্কদের। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও রয়েছে শীতকষ্টে।
শীতের কারণে স্থানীয় দিনমজুররা ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ির বাইরেও তেমন একটা বের হননি। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহর ছিল অনেকটাই ফাঁকা। বিকালের আগেই মিলিয়ে যাচ্ছে সূর্যের নিস্তেজ আলো। গতকাল সারাদিনই ছিল সূর্যের লুকোচুরি। এছাড়া সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত হাওয়া বয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বাতাস বয়ে যাচ্ছে। হিমালয়ের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস শীতের রুক্ষতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেলা প্রশাসন প্রায় ৩৪ হাজার কম্বল বিতরণ করেছেন। শীতবস্ত্রের চাহিদা বাড়লেও জেলা প্রশাসনের কাছে নতুন করে কোন শীতবস্ত্র আসেনি।
জেলা শহরের রিকশাচালক মোমিনুল জানান, ঠাণ্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। গাড়ি চালাতে পারছি না। সকালে গাড়ি নিয়ে বসে আছি। ভাড়াও মিলছে না।
জেলার সদর উপজেলার ধাক্কামারা এলাকার আল আমিন জানান, হিমালয় ও সাইবেরিয়ান শীতের বাতাস আমাদের এলাকায় প্রবাহিত হওয়ায় এখানে শীত বেড়েছে।
দিনমজুর আশরাফ আলী জানান, রাতের হিমেল হাওয়ায় শরীর শীতল হয়ে যায়। সকাল থেকে ঘন কুয়াশা আর বাতাস শরীর কাঁপছে। শীতের কারণে কাজেও যেতে পারিনি। কাজ না পেলে সবাইকে উপোস থাকতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শষ্য) মো. শাহা আলম মিয়া জানান, ঘনকুয়াশা গম ও সরিষাসহ কিছু ফল ও ফসলের জন্য আশীর্বাদ। তবে এমন আবহাওয়া আলু ও বীজতলার ক্ষতি করে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানান, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি সারাদেশের মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল শ্রীমঙ্গলে।
তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে তাপামাত্রা কমছে। রবিবার সকাল ৯টায় এখানে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এবং এখানে এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।