রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার অভিযোগ

ষষ্ঠ ধাপে গত ৩১ জানুয়ারি দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জিতিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তিন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অর্থ প্রদান না করায় হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মেম্বার প্রার্থী ইয়াছিন আলী (ফুটবল), মোকলেসুর রহমান (বৈদ্যুতিক পাখা) ও আহসান হাবীব (টিউবওয়েল) পৃথক অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রের কপি জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউল হক। একই ওয়ার্ডের কুতইড় আলহাজ্ব পিয়ার মহাম্মদ সরকার দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল্লাহ আল শামস। 

মেম্বার প্রার্থী ইয়াছিন আলী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউল হক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। ভোটের দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত মোট চারটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বন্ধ ছিল। পরে আবার সচল হয়। দুপুর সাড়ে ৩টায় সবগুলো মেশিন পরিবর্তন করা হয়। খবর নিতে গেলে আমাকে রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। আমার জানামতে, ভোট পেয়েছি প্রায় ৫০০। কিন্তু আমার বল মার্কায় ভোট দেখিয়েছে ১২০। এছাড়া আমার এজেন্টকে সঠিকভাবে ভোটের ফলাফল বুঝিয়ে না দিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম গাড়িতে তুলে নেন। এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ফলাফলের আগেই সহি-স্বাক্ষর নেন। আমার কাছে তিন লাখ চেয়েছিলেন আতাউল হক। দিতে অস্বীকার করায় প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে মিথ্যা ফলাফলের ঘোষণা করে আমাকে হারিয়ে দেন।’

মোকলেসুর রহমান লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচনে আমাকে জিতিয়ে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউল হক। আমি টাকা দিতে পারিনি। ৩০ জানুয়ারি রাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল শামস আমার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার প্রতিপক্ষকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কম্পিউটার অপারেটর সুজনের নেতৃত্বে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করেন।’ 

ইভিএম মেশিন পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষে আমার পোলিং এজেন্টদের ইভিএম মেশিনের হিসাব না দিয়ে তারা মনগড়া সাদা কাগজের ফলাফল প্রদান করেন।’

আহসান হাবীব অভিযোগ করে বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউল হক আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এরর ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমাকে মনোনয়নপত্রের বৈধতা প্রদান করেন। এছাড়া ৩০ জানুয়ারি রাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল শামস আমাকে দুই লাভ টাকার বিনিময়ে জিতিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করায় প্রতিপক্ষকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে জিতিয়ে দেন।’

এদিকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল শামস বলেন, ‘ আমার বিরুদ্ধে তোলা সবগুলো অভিযোগ মিথ্যা।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউল হক বলেন, ‘নির্বাচনের দিন মৌখিকভাবে ইভিএমে কারচুপির বিষয় জানিয়েছিল। ওই সময়ে তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি, ইভিএমে কোনও ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল, পরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে আপিলে তিনি প্রার্থিতা পেয়েছেন। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কমকর্তা শাহিনুর ইসলাম প্রামানিক বলেন, তিন জন প্রার্থীর পৃথক পৃথক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।