আজ পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দুই দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলিতে ফুলের দোকানে তরুণ-তরুণীদের ভিড় বেড়েছে। প্রিয়জনকে উপহার দিতে নানা ধরনের ফুল কিনছেন তারা। কেউ কেউ ফুলের মালা কিনছেন।
বেশি দামে ফুল বিক্রির অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। এদিকে দোকানিদের দাবি, করোনার কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বেচাকেনা তেমন জমে না উঠলেও বিক্রি বেড়েছে।
হিলির স্বর্ণপট্টির দোকানগুলো বিভিন্ন ফুলে ভরে উঠেছে। প্রতিটি গোলাপ আকার ভেদে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, আকার ভেদে ফুলের তোড়া দেড়শো থেকে ২শ’ টাকা, মাথার মুকুট আকার ভেদে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, অর্কিড ফুল ২০ থেকে ২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এসব ফুলের দাম গত বছর কিছুটা কমে বিক্রি হয়েছিল।
ফুল কিনতে আসা লেমন হোসেন বলেন, ‘আমি ফুল খুবই পছন্দ করি। তাই ফুল কিনতে এসেছি। তাছাড়া আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আর ভালোবাসার নিদর্শন ফুল। তাই ভালোবাসার মানুষকে উপহার দেওয়ার জন্য কিনতে এসেছি। এবার ফুলের দামটা তুলনামূলকভাবে অনেকটা বেশি।’
ফুল কিনতে আসা শিউলি পারভীন বলেন, ‘আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তবে ভালোবাসা দিবস তো শুধু ১৪ ফেব্রুয়ারিতেই হয় না, প্রতিদিনই। আমাদের বাবা-মা, ভাইবোনের প্রতি যে ভালোবাসা তার জন্য বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। তবে ফুল ভালো লাগে, ফুলকে ভালোবাসি, প্রিয়জনকে উপহার দেবো বলে ফুল কিনতে এসেছি।’
রুহুল আমিন ও মেহেরুন নামের এক দম্পতি বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের বিয়ে হয়েছে। আজ ভালোবাসা দিবসে ঘুরতে বেরিয়েছি। আর ভালোবাসার নিদর্শন যেহেতু ফুল, তাই দোকানে এসেছি পছন্দের ফুল কিনতে।’
ছেলেকে ফুল কিনে দিতে আসা জবা রানী বলেন, ‘সবাই ফুল ভালোবাসে। ফুল নেওয়ার জন্য ছেলে জিদ করছে, তাই ফুল কিনতে এসেছি।’
হিলি বাজারের ফুল বিক্রেতা বাতেন শেখ বলেন, ‘পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রতিবছর ফুলের দাম এমনিতেই একটু বেশি থাকে। কিন্তু এবার আগের বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। বাজারে ফুলের সরবরাহ কম। যে ফুল আমরা গত বছর ৪০-৫০ টাকা বিক্রি করেছি, এবারে তা ৭০-৮০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ। ছেলে-মেয়েরা ফুল কিনতে আসছে, তবে তা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম। বিক্রি ভালোই হচ্ছে। দামটা যদি কম থাকতো তাহলে বিক্রি আরও বাড়তো।