দিনাজপুরের হিলিতে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪ টাকা থেকে ৮ টাকা কমেছে। একদিন আগে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দাম কমে ৩২ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চাহিদা বাড়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি। বন্দরে ৩১-৩২ টাকা দামেই বিক্রি হচ্ছে আমদানিকৃত পেঁয়াজ, যা আগে ২১-২২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেয়াজ ২২ টাকা থেকে ২৪ টাকায় কিনেছিলাম। সপ্তাহের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজ এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একে তো সব জিনিসের দাম বেশি, তার মধ্যে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
পেঁয়াজ বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, মাঘের হঠাৎ বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশি পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে যে পেঁয়াজ ২০ টাকা থেকে ২৪ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, দাম বেড়ে তা এখন ৪০ টাকায় ওঠে। যদিও একদিনের ব্যবধানে আবারও ৩২ থেকে ৩৬ টাকায় নেমেছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের ধারণা, বর্তমানে ভারত থেকে সেভাবে আমদানি না হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। এতে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আমদানি বাড়লে আমরা যেমন কম দামে কিনতে পারবো, তেমনি কম দামে বিক্রিও করতে পারবো। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করছি ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী স্বপন মুন্সি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম কম থাকায় আমদানিকৃত পেঁয়াজের চাহিদা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে ভারত থেকে পেয়াজ আমদানির ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) প্রদান বন্ধ করে দেয় সরকার। তারপরও বন্দর দিয়ে আগের আইপির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছিলেন আমদানিকারকরা। কিন্তু বাড়তি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হয়। লোকশানের কারণে আমদানির পরিমাণ আরও কমিয়ে দেন। তবে সম্প্রতি মাঘের হঠাৎ বৃষ্টিতে দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে যেখানে মাত্র দুটি ট্রাকে ২৯ টন পেয়াজ আমদানি হয়েছিল। শনিবার ১৪টি ট্রাকে ৪০৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।